উত্তর প্রদেশে বিদ্যুৎ মিটারের কাজ হারালেন আদানি

গৌতম আদানি
ফাইল ছবি

টেন্ডারে সবচেয়ে কম দাম দেওয়া সত্ত্বেও বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে এক প্রকল্পের কাজ হাতছাড়া হলো আদানি গোষ্ঠীর। গতকাল সোমবার ওই রাজ্যের সরকার পরিচালিত এক বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা ৫ হাজার ৪০০ কোটি রুপির ওই বরাদ্দ বাতিল করেছে। বাড়ি বাড়ি বিদ্যুতের স্মার্ট প্রিপেইড মিটার সরবরাহের জন্য ওই সংস্থা টেন্ডার ডেকেছিল। তাতে আদানি গোষ্ঠী সবচেয়ে কম দাম দেওয়া সত্ত্বেও বরাদ্দ বাতিল করা হয়। কেন বরাদ্দ বাতিল, তার কারণ হিসেবে সরকারিভাবে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

উত্তর প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চার অঞ্চলে চারটি পৃথক সংস্থা রয়েছে। সেই সংস্থাগুলোর একটি মধ্যাঞ্চল বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি কয়েক লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার সরবরাহের জন্য টেন্ডার ডেকেছিল। আদানি ট্রান্সমিশন লিমিটেড ছাড়াও ওই টেন্ডারে অংশ নেয় এল অ্যান্ড টি, জিএমআর, ইন্টেলি স্মার্ট ইনফ্রার মতো সংস্থা। সবার মধ্যে আদানির টেন্ডার ছিল সবচেয়ে কম দর। তারা প্রতি মিটারে দাম দিয়েছিল ১০ হাজার রুপি। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে সেই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে।

রাজ্য সরকার কোনো কারণ না দেখালেও সরকারি সূত্র অনুযায়ী প্রতি মিটারে বরাদ্দ ধার্য ছিল ৬ হাজার রুপি। সে ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দাম ছিল প্রতি মিটারে ৪ হাজার রুপি বেশি। এ নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই সম্ভবত টেন্ডার বাতিলের সিদ্ধান্ত। চার অঞ্চলের জন্য এই বাবদ মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২৫ হাজার কোটি রুপি।

আজ মঙ্গলবারও ভারতীয় সংসদের দুই কক্ষ সকাল থেকে হট্টগোলে অনেকটা সময় মুলতবি থাকে। লোকসভা মুলতবি হয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত, রাজ্যসভা ২টা পর্যন্ত। পরে দুই সভাতেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীরা।

আদানি গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা সরকারকে চাপে রাখার কর্মসূচি থেকে বিরত হয়নি। সোমবার দেশের সব রাজ্যে জীবন বিমা করপোরেশন (এলআইসি) ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার অফিসে কংগ্রেস আদানিবিরোধী বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। আজ বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা। বিরোধী নেতাদের দাবি, সরকারের চাপে আদানি গোষ্ঠীতে জনগণের টাকা লগ্নি করা যাবে না। বিরোধীদের সম্মিলিত প্রশ্ন, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির ক্ষেত্রে বেসরকারি ফান্ড ব্যবস্থাপকেরা যেখানে সতর্ক, মাত্রাছাড়া দাম বাড়া সত্ত্বেও আদানির যেসব সংস্থার শেয়ার বেসরকারি ফান্ড ম্যানেজাররা এড়িয়ে গেছেন, সেখানে এলআইসি ও স্টেট ব্যাংক কেন মাত্রাছাড়া শেয়ার কিনছে? কার নির্দেশে?

আদানিদের জন্য শেয়ারবাজার আজও ছিল মিশ্র। বাজার বন্ধের সময় আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ার ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আদানি পোর্টস বেড়েছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ, এসিসি ১ দশমিক ৪৪, আদানি উইলমার ৪ দশমিক ৯৯, অম্বুজা সিমেন্ট ২ দশমিক ১৩ ও এনডিটিভি ১ দশমিক ১৯ শতাংশ। আদানি টোটার গ্যাসের শেয়ার পড়েছে ৫ শতাংশ, আদানি পাওয়ারের ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, আদানি গ্রিন এনার্জি ৪ দশমিক ৯১ ও আদানি ট্রান্সমিশনের শেয়ারের দাম পড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ।