ভবানীপুরে ৫০ হাজার ভোটার বাদ, কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
ভোটার তালিকা থেকে ৫০ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়ায় দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনে এবার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা ও বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটার সংখ্যার এই বড় পরিবর্তন এবারের নির্বাচনের সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) ফলে ভবানীপুর আসনের খসড়া তালিকা থেকে মোট ৫০ হাজার ৬১২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। প্রথমে ৪৭ হাজার ১১২টি নাম বাদ পড়লেও পরে আরও ৩ হাজার ৫০০ জন ভোটার তালিকা থেকে ছিটকে যান। এত বিপুলসংখ্যক ভোটার কমে যাওয়ায় আসনটিতে জয় নিশ্চিত করা মমতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে এই দুই নেতার লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম। ওই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে মমতাকে পরাজিত করেছিলেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী পদ টিকিয়ে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেন।
ওই আসনে আগে জয়ী হওয়া তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করলে উপনির্বাচনে জিতে মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব বজায় থাকে।
এবার মমতা আবার ভবানীপুর থেকে লড়ার ঘোষণা দিলে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন, তিনি এই আসনেই লড়বেন এবং জয়ী হবেন। অন্যদিকে মমতাও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতি ভবানীপুরে হবে না।
২০২১ সালের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮৫ হাজার ২৬৩ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল পান ২৬ হাজার ৪২৮ ভোট। এর আগে সাধারণ নির্বাচনে তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৭৩ হাজার ৫০৫ ভোট।
অন্যদিকে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু পেয়েছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার ৭৬৪ ভোট এবং মমতা পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮০৮ ভোট।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন ছাড়াও রাজ্যে শাসক দলের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মমতার ‘সততার প্রতীক’ স্লোগানটি নিয়ে বিরোধীরা সরব রয়েছে।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব চ্যালেঞ্জ মানতে নারাজ। তিনি মনে করেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’সহ তাঁর জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
মমতা বলেন, ‘যতই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হোক, মানুষ মমতাকেই ভোট দেবেন। বাংলা ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে চলে, তাই মানুষ ধর্মান্ধ বিজেপিকে বেছে নেবে না।’
তৃণমূলের আশা, বাংলার মানুষ চতুর্থবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ক্ষমতায় বসাবেন।