মণিপুরে নতুন করে সংঘর্ষে চারজন নিহত

মণিপুর রাজ্যে সংগীত অনুষ্ঠান ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি ও দোকানে আগুন দেওয়া হয়। ভারতীয় রেড ক্রসের কর্মীরা রাজ্যের চিরাপুরে সেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। ১৯ অক্টোবর ২০২৬, থাওবলছবি: এএনআই

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী ইম্ফল শহর প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে মেইতেই এবং পাঙ্গাল মুসলিম সম্প্রদায়–অধ্যুষিত একটি এলাকায়। সেখানে একটি সংগীতানুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ পাথর ছোড়াছুড়ি ও গোলাগুলি শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলক এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঠ সংগ্রহ করতে পাহাড়ে যাওয়া কয়েকজন গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সন্দেহভাজন উপজাতীয় উগ্রপন্থীদের এই হামলায় ঘটনাস্থলেই তিন গ্রামবাসী নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিয়ে সরাসরি ইম্ফলের মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে থাকা বাংলোর সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

মণিপুর রাজ্যে সংগীত অনুষ্ঠান ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসী এনএইচ–২ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। ১৯ অক্টোবর ২০২৬, থাওবল
ছবি: এএনআই

সহিংসতার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইমুনাম খেমচান্দ সিং রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন তিনি। স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশ্বর সিং এই সহিংসতার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা একটি ক্যাম্প অপসারণের জোরালো দাবি তোলেন।

২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত শুরু হয়। এর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায়ই সহিংসতা লেগেই রয়েছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়ে সরকারি শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

চলমান এই নতুন সংঘর্ষ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যকার পুরোনো দূরত্ব ও অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভঙ্গুর এই শান্তি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে রাজ্যের মানুষ দাবি তুলেছেন।