কেন্দ্রীয় সরকারের চোখে পিএফআই এমন এক সংগঠন যাদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের যোগ রয়েছে। এই তল্লাশি অভিযানে এনআইএর সঙ্গে যোগ দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ইডি)। তাদের সাহায্যে রয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী। সংবাদ সংস্থাগুলো এই খবর দিয়ে জানিয়েছে, পিএফআইয়ের শীর্ষ কর্তাসহ শতাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রের অভিযোগ, পিএফআই নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ সাহায্য করে চলেছে। সেই অভিযোগেই এই তল্লাশি অভিযান। এমন একটা সময় এই তল্লাশি যখন সুপ্রিম কোর্টে হিজাব মামলার শুনানি চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের অভিযোগ, হিজাব বিতর্কে ‘ইন্ধন’ জোগাতে পিএফআই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে।

তল্লাশি অভিযান শুরু হয় আজ ভোর থেকে। কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, পদুচেরি, আসাম ও রাজস্থানে এই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যালয় ছাড়াও নেতা–কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, অভিযান শেষ হলে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রচার করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই এই সংগঠনের ওপর নজর রাখা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন ইসলামি রাষ্ট্র, বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত ও তুরস্ক থেকে এই সংগঠন বেআইনিভাবে অর্থ সাহায্য পায় বলে অভিযোগ। সেই অর্থ সন্ত্রাসবাদী কাজ ছাড়াও যুব সম্প্রদায়ের ইসলামিকরণে খরচ করা হয়। অভিযোগ, পিএফআইয়ের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ইসলামি সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া বা ‘সিমি’র কর্তারাই পিএফআইয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর, কুদ্দালোর, রামনাড, দিনদুগালে এই নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চলে আসামের গায়াহাটি ও হাতিগাঁওয়েও। সেখানে সংগঠনের ৯ জন নেতাকে আটক করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় ৩৮টি জায়গায় এনআইএ তল্লাশি চালিয়েছিল। বেআইনি কাজ নিরোধ আইনে (ইউএপিএ) গ্রেপ্তার করা হয়েছিল পিএফআইয়ের চার নেতাকে।

পিএফআইয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সরকারি ‘দমনপীড়নের’ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, ‘জাতীয়, রাজ্য ও স্থানীয় নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাজ্য কমিটির দপ্তরেও তল্লাশি চলছে। স্বৈরতন্ত্রী সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন তদন্ত সংস্থাদের দিয়ে বিক্ষুব্ধ স্বর বন্ধ করতে চাইছে।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন