কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য রেখেছেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। সোমবার শান্তিনিকেতনের বাড়িতে ফেরার পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বভারতীর পড়াশোনার মান নেমে গেছে বলে মন্তব্য করেন। এর আগে, জানুয়ারির মাঝামাঝি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিজেপি এক হিন্দু ভারতের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অমর্ত্য সেনের বাড়ি ‘প্রতীচি’র সীমানার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ডেসিমাল (৫ হাজার ৬০০ বর্গ ফুট) জমি ঢুকে রয়েছে। বিশ্বভারতীর উপাচার্য হিসেবে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যোগ দেওয়ার পর এ অভিযোগ প্রায় নিয়মিতভাবে করতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ অভিযোগ প্রত্যাহার করার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনি চিঠিও পাঠান অমর্ত্য সেন। অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বিশ্বভারতীর জমিবিষয়ক অভিযোগকে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ বলে অতীতে বর্ণনা করেছেন।

ভারতে ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাদের সরাসরি বিরোধ তৈরি হয়েছে। একেবারে শুরুতেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরানো হয়। তারপর অধ্যাপক সে মেয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে করেছেন বিজেপির নেতা–কর্মী ও মন্ত্রীরা। তাঁদের প্রধান বক্তব্য ছিল, অমর্ত্য সেন দেশের বাইরে ভারতের বদনাম করছেন। ভারতের উন্নয়নে তাঁর কোনো ইতিবাচক ভূমিকা নেই বলেও অতীতে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব। খোদ কলকাতায় কোনো আলোচনা সভায় বক্তা হিসেবে অমর্ত্য সেনের নাম থাকলে কেন্দ্র সরকারের প্রেক্ষাগৃহে সেই অনুষ্ঠানের অনুমতিও দেওয়া হয় না। নানাভাবে তাঁকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করেন বিজেপির নেতারা।

এই সময়কালে অমর্ত্য সেনও ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছেন। জানুয়ারিতে কলকাতায় আসার পরও তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক চরিত্র পাল্টে ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি। ভারতের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কার দিন আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। এসবের জেরেই তাঁকে আবার নতুন করে তাঁর শান্তিনিকেতনের বাড়ির একাংশ ছাড়তে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বলল বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী শুরু করার পর অমর্ত্য সেনের পরিবারের একাধিক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় উপাচার্য ক্ষিতিমোহন সেন, যিনি অমর্ত্য সেনের মাতামহ। তাঁর মা অমিতা সেনও রবীন্দ্রনাথের ছাত্রী ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তাঁকে নানা কাজে সাহায্য করেছেন। অধ্যাপক সেনের নামকরণও করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

এখন শান্তিনিকেতন থেকেই অধ্যাপক সেনকে ঘরছাড়া করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।