বৃহস্পতিবার বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, সূর্য কান্ত ও পি এস নরসিংহ নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মসজিদ পরিচালক কমিটির আবেদন অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থগিত রাখেন। তার মধ্যে নিম্ন আদালতের রায় জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের কাছে দুটি নতুন আবেদন জমা পড়েছিল। একটি শিবলিঙ্গ পূজা করার, অন্যটি সেই শিবলিঙ্গের বয়স জানতে সেটির কার্বন ডেটিং পরীক্ষা ও জিপিএস অবস্থান জরিপের। মূল মামলার নিষ্পত্তি নিম্ন আদালতে না হওয়া পর্যন্ত ওই আবেদনে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার জানালে আবেদন দুটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদ, বারানসিতে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং মথুরায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি শাহি ঈদগাহ মসজিদ নিয়ে বিজেপি ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আন্দোলন বহু বছরের। তিনটি স্থানেই মন্দির-মসজিদের সহাবস্থান বহু বছর ধরে।

হিন্দুত্ববাদীরা চান মন্দিরকে মুক্ত করতে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর আইনি পথে অযোধ্যা বিতর্কের মীমাংসা হয়েছে। তখন থেকেই বিজেপির দাবি কাশী ও মথুরা সমস্যার সমাধান হবে। নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সেই দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। জ্ঞানবাপি মসজিদে জরিপের সিদ্ধান্ত সেই আইনি পথেই। বারানসির দায়রা আদালতের বিচারকের নির্দেশে গঠিত কমিটি মসজিদের জরিপ ও ভিডিওগ্রাফি করার পর ওই শিবলিঙ্গ থাকার দাবি তীব্রতর হয়ে ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এ–সংক্রান্ত মামলা দায়রা আদালত থেকে জেলা আদালতে স্থানান্তরিত হয়। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হলে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপে রাজি নন।

অযোধ্যাকাণ্ড যাতে সারা দেশে না ছড়ায় সে জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নরসিংহ রাও ১৯৯১ সালে ‘প্লেসেস অব ওয়ারশিপ আইন’ চালু করেছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিন ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন ধর্মস্থানের চরিত্র যেমন ছিল, তেমনই অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যতিক্রম শুধু অযোধ্যা। আনজুমান ইন্তেজেমিয়া কমিটির দাবি, জ্ঞানবাপি মসজিদকে কেন্দ্র করে যা কিছু চলছে এবং সেই বিষয়ে বারানসির নিম্ন আদালতের রায় ওই আইনের পরিপন্থী।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন