অমর্ত্য সেনকে দেওয়া নোটিশ ঘিরে বিতর্ক, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ব্যাপক অনিয়ম ও বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম কেটে দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস।

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এর মধ্যেই শুনানির জন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামি আর অভিনেতা দেবকে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

গত ডিসেম্বরে রাজ্যে সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ১৫ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চলছে তালিকা সংশোধনের কাজ। এ প্রক্রিয়া নিয়েই আপত্তি তৃণমূলের। তাদের অভিযোগ, শুনানির নামে রাজ্যের প্রবীণ ও চলনশক্তিহীন ভোটারদেরও সরকারি দপ্তরে ডেকে পাঠানো হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটে এক সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে।

এ অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন একটি বিবৃতি দেয়। এ বিষয়ে কমিশন জানায়, অমর্ত্য সেনের পক্ষে জমা দেওয়া আবেদনে কিছু ত্রুটি ছিল। কমিশনের সফটওয়্যারে সেই ত্রুটি ধরা পড়ায় নোটিশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে চলে গেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অমর্ত্য সেনকে শুনানিতে আসতে হবে না। ভোটার তালিকার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ত্রুটি সংশোধন করে আসবেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির বিধায়ক ও অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী বলেন, ‘আইনের চোখে উনি, রবীন্দ্রনাথসহ সকলেই সমান। তবে অন্যায়ভাবে নোটিশ দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিহিত অবশ্যই দরকার।’

এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনের দায়ের করা সেই আবেদনে ভোটার তালিকায় দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা ১৫ জানুয়ারির পর বাড়ানোর আরজি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখারও অনুরোধ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন যেন বেআইনিভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশিকা জারি করা বন্ধ করে এবং ত্রুটিপূর্ণ ম্যাপিংয়ের ফলে কোনো যোগ্য ভোটার যাতে বাদ না পড়েন, সেটা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া স্থায়ী বসবাসের সনদ এবং পঞ্চায়েত ঠিকানায় বসবাসকেও বৈধতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।

এ বিতর্ক প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপির আইটি সেল দিয়ে তৈরি করা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেছে নির্বাচন কমিশন।
অভিষেক ব্যানার্জি বিষয়টিকে ‘এক ষড়যন্ত্র’ বলেছেন।

এর পাল্টা জবাবে রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, শাসকেরা চাইছেন নতুন তালিকায় ভুয়া ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে।