পশ্চিমবঙ্গে বেশি ভোট পড়ার সুবিধা কারা পেতে পারে, কী বলছে তৃণমূল-বিজেপি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় অবিশ্বাস্য হারে ভোট পড়েছে। দুই প্রধান দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি এই ভোট পড়াকে তাদের জয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দাবি করছে। যদিও কেন বেশি ভোট তাদের সাহায্য করবে, তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ কোনো দলই দেয়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ৯১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পড়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোটের হার এখনো পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষই মনে করছে, এই বিপুলসংখ্যক ভোট তাদেরই সাহায্য করবে।
এক জনসভায় গতকালই রেকর্ড হারে ভোট পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, এত ভোট পড়া ‘গুড সাইন’ বা ভালো ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ‘৯১ লাখ ভোটারের নাম কাটার পরও কেন ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে জানেন? আসলে মানুষ জানে, এবারের ভোটটা তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই। কারণ, এরপরই ওরা এনআরসি (জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন) করবে। এনআরসি করার লক্ষ্যেই ওরা ডিলিমিটেশন বিল পার্লামেন্টে এনেছিল।’
মমতা দাবি করেন, বাদ যাওয়া ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩২ লাখের নাম তিনি সুপ্রিম কোর্টে তুলেছেন। ট্রাইব্যুনাল কিছুই তুলতে পারেনি। সেটা ওদের (বিজেপির) নির্দেশে হয়েছে কি না, কে জানে?
মমতা বলেন, তৃণমূলকে ভোট না দিলে ‘আমও যাবে, ছালাও যাবে। অধিকার, সম্পত্তি, ব্যবসা, ঠিকানা সবই যাবে।’
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র এবং কলকাতার বিধায়ক প্রার্থী কুনাল ঘোষ দাবি করেন, তাঁরা ১৫২ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩৫ আসন পেতে পারেন। প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার ১৫২ আসনে ভোট হয়েছে।
কুনাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘যত বেশি ভোটের হার, তত জোরালো প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের। আজকের ১৫২ আসনের মধ্যে ১২৫-১৩৫ আসন জিতবে তৃণমূল। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।’
তৃণমূলের পক্ষের অন্য নেতাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোটের আগেই লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। এতে তাঁদের প্রবল ভুগতে হয়েছে। এরপরও তাঁদের অনেকেই ভোটের অধিকার পাননি। অথচ তাঁরা অতীতে ভোট দিয়েছেন।
তৃণমূলের সমর্থকদের বক্তব্য, এর ফলে এই মানুষজন ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।
জেতার দাবি বিজেপিরও
অন্যদিকে বৃহস্পতিবারের প্রথম দফার ভোটের পর তাদের জয় নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত বিজেপি। তাদেরও বক্তব্য, ১৫২ আসনের মধ্যে বড়সংখ্যক আসন তারাই পেতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতোই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী ভোটের পরে বলেন, ‘১৫২–এর মধ্যে আমরা অন্তত ১২৫টি আসন পাব। যা বলছি ৪ তারিখে মিলিয়ে নেবেন।’
বিজেপি নেতা আরও বলেন, তাঁর আসন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে তিনি অবশ্যই জিতছেন। একই দাবি অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসও করেছে।
বিজেপির পক্ষের পর্যবেক্ষকদের দাবি, বেশি ভোট পড়লে তা সাধারণত ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যায়। মানুষ দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ভোট করলেই ভোটের হার এতটা বাড়ে। এই যুক্তিতে প্রথম দফার ভোটের পর তাদের জয় সুনিশ্চিত বলে দাবি করছে বিজেপির একাংশ।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এদিন পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন। হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ায় এক জনসভায় বিজেপি নেতা হিমন্ত দাবি করেছেন, ‘বিজেপি জিতছেই। আর জেতার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আসাম থেকে বাংলায় মাছ পাঠাব।’
প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৫২ আসনের মধ্যে ৯০টি (৫৯ শতাংশ) জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি জিতেছিল ৫৯টি (৩৮ শতাংশ)। আরেকটি আসন জিতেছিল দার্জিলিংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (বিনয়পন্থী)।
২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় এবং শেষ দফায় ১৪২ আসনে ভোট হবে। এই ১৪২ আসনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৪২ আসনের মধ্যে তারা পেয়েছিল ১২৩টি আসন অর্থাৎ ৮৭ শতাংশ, আর বিজেপি পেয়েছিল ১৮ আসন অর্থাৎ ১৩ শতাংশ আসন।
অতএব তৃণমূলকে গতবারের এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে। আর বিজেপি তাদের আসন বৃদ্ধি করতে চাইবে। এই পর্যায়ে ২৯ এপ্রিল দুই প্রধান পক্ষের মধ্যে আরও জোরালো লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ৪ মে রাজ্যের সব আসনের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। এদিন পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর বিধানসভার ফল ঘোষণা করা হবে।