অরেভা নামের একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠান সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে সেতুটি মেরামতের কাজ পায়। সেতুটি মেরামত শুরুর পর থেকে সাত মাস এটি বন্ধ ছিল। গত ২৬ অক্টোবর এটি খুলে দেওয়া হয়।

মরবি মিউনিসিপ্যাল এজেন্সি প্রধান সন্দীপন জালা বলেন, অরেভা কোনো ফিটনেস সনদ না নিয়েই সেতুটি চালু করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, এটা সরকারি টেন্ডার। অরেভা গ্রুপের সেতুটি উন্মুক্ত করার আগে মেরামতের বিস্তারিত জানিয়ে ফিটনেস সনদ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি। সরকার এটার বিষয়ে অবগত ছিল না।

রোববার সন্ধ্যার দিকে ধসে পড়ার সময় সেতুটিতে আনুমানিক ৫০০ মানুষ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুটিতে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। তারা এর ওপর দৌড়াচ্ছেন, লাফাচ্ছেন। তাদের এরকম কর্মকাণ্ডের জন্য সেতুটি দুলছিল।

গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স ও বিমান বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন।

এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে আসার চেষ্টা করছেন। সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসায় তীরে আসতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল তাঁদের। কেউ কেউ নদীর মাঝে ভেঙে ঝুলতে থাকা সেতুর অংশ ধরে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছিলেন।

এ ঘটনার পর জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্ঘটনার সময় তিনি গুজরাটে ছিলেন। সেতু ছিঁড়ে পড়ার পর জরুরি কর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেন স্থানীয় লোকজনও। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র প্যাটেলকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থল মরবির উদ্দেশে যাত্রা করেন গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংগাভি।

সেতু দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি দেওয়া হবে ৫০ হাজার রুপি। এ ছাড়া রাজ্য সরকারও হতাহত ব্যক্তিদের জন্য অর্থসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। সহায়তা হিসেবে নিহত প্রত্যেকের পরিবার ৪ লাখ রুপি এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবার ৫০ হাজার রুপি করে পাবে।