ত্রিপুরার কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং আর নেই

কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং (১৯৫৭-২০২৩)

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যা ও নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারতের সাহিত্য একাডেমির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মৌখিক সাহিত্যকেন্দ্রের অধিকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।

ত্রিপুরার অন্যতম বিশিষ্ট কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিংয়ের জন্ম ১৯৫৭ সালে। আদিবাসীদের ভাষা ‘ককবরক’-এ ‌লি‌খে‌ছেন এবং কবিতার পাঁচটি বই প্রকাশ করেছেন। ‘সমসাময়িক ত্রিপুরায় জনজীবনের যন্ত্রণা’ তাঁর কবিতার মূল প্রতিপাদ্য। ত্রিপুরার পাহাড়, খরস্রোতা নদী ও পাখির গানের সুর তিনি কবিতায় প্রতিস্থাপন করেছেন।

‘ককবরক’ সাহিত্য বিকাশে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৭ সালে সাহিত্য একাডেমি-নয়াদিল্লি থেকে ভাষাসম্মান পুরস্কার অর্জন ক‌রেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলির ‘ককবরক’ ভাষায় স্বরলিপি তৈরি করেছিলেন কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিং। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে তিনি ‘ককবরক’ সাহিত্য একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।

জাতীয় কবিতা পরিষদের শোক

বাংলা‌দেশ ‘অকৃ‌ত্রিম বন্ধু’ ক‌বি চন্দ্রকান্ত মুড়া‌সিংয়ের আকস্মিক প্রয়া‌ণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় ক‌বিতা প‌রিষ‌দ। কবিতা পরিষদের সভাপ‌তি মুহাম্মদ সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক তা‌রিক সুজাত কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিংয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ক‌রে তাঁর শোকসন্তপ্ত প‌রিবা‌রের প্রতি সম‌বেদনা জানিয়েছেন।

কবি চন্দ্রকান্ত মুড়াসিংয়ের মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় কবিতা পরিষদ বলেছে, সা‌হিত‌্য-সংস্কৃ‌তিতে তাঁর অনন‌্য অবদা‌নের জন্য বাংলা‌দেশ ও ভার‌তের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার স‌ঙ্গে স্মরণ কর‌বে। তি‌নি ছি‌লেন জাতীয় ক‌বিতা প‌রিষ‌দের এক‌নিষ্ঠ সুহৃদ। তিনি উত্তর-পূর্ব জাতীয় ক‌বিতা প‌রিষদ গঠন ক‌রে বাংলা‌দেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভার‌তের ক‌বি-সা‌হি‌ত্যিক-সংস্কৃ‌তিকর্মী‌দের মধ্যে এক নি‌বিড় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গ‌ড়ে তু‌লে‌ছি‌লেন। তাঁর প্রয়াণ আমা‌দে‌র জ‌ন্য অপূরণীয় শূন্যস্থান তৈ‌রি কর‌ল।