মুখ্যমন্ত্রী সোরেন রাঁচিতে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত ঝাড়খন্ড সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে বিজেপি সব কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নামিয়ে দিয়েছে। আমি সিবিআই, ইডির ভয়ে ভীত নই। বিজেপির বিরোধিতা যারাই করছে, তাদের দমাতে তারা সব সাংবিধানিক সংস্থার ক্ষমতা অপব্যবহার করছে।’ রাঁচিতে দলীয় কর্মীদের সামনে এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই চক্রান্তের যোগ্য জবাব আমরা দেব। হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন যেসব ব্যবসায়ী, বিজেপি তাঁদের দেশত্যাগী হতে সাহায্য করে, অথচ বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।’

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের অভিযোগ, টাকা ছড়িয়ে বিধায়ক কিনে ঝাড়খন্ড সরকার দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর বিজেপি এখন দুর্নীতির অভিযোগ আনছে। দলীয় কর্মীদের সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার আগে গতকাল সকালে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন টুইট করে বলেছিলেন, ‘আমাকে হয়রান করার মূল উদ্দেশ্য হলো আদিবাসী, উপজাতি, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করা। আমাদের পূর্বসূরিরা হারতে শেখাননি। তাঁরা শিখিয়েছিলেন কীভাবে লড়াই করে জিততে হয়।’

সোরেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেকে ও নিজের পরিবারের সদস্যদের জমি ও খনি ইজারা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে এই কারণে ‘অফিস অব প্রফিট’-এর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ পাঠিয়েছে রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে। যদিও রাজ্যপাল এখনো কোনো ব্যবস্থা নেননি।

ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী যে সময় কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানান, দুর্নীতির প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন, ঠিক সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের ওপর জোর দেন। কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন (সিভিসি) আয়োজিত ভিজিল্যান্স অ্যাওয়ারনেস সপ্তাহ পালন অনুষ্ঠানে গতকাল দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতেই হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সিভিসির মতো যেসব সংস্থা নিরলস লড়াই চালাচ্ছে, তারা যেন থমকে না যায়। তিনি বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। এই লড়াইয়ে আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের কোনো জায়গা নেই।

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন উপলক্ষে ৩১ অক্টোবর থেকে ভিজিল্যান্স অ্যাওয়ারনেস সপ্তাহ পালন শুরু হয়েছে। সেই উপলক্ষে সিভিসির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও শামিল করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ যত শক্তিশালীই হোক, কোনোভাবেই তাদের বাঁচানো যাবে না। এই কর্তব্য আপনাদের পালন করতেই হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি যাতে রাজনৈতিক-সামাজিক সমর্থন না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।’ এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বহু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলে পোরার বদলে তাদের মহিমান্বিত করা হয়। এই মনোভাব ও পরিবেশ দেশের পক্ষে ভালো নয়।’ আধিকারিকদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘আপনারা যখন দৃঢ়তার সঙ্গে ভূমিকা পালন করেন, কর্তব্যপরায়ণ হন, সারা দেশ তখন আপনাদের সমর্থন জানায়।’

দেশের বিরোধীদের অভিযোগ, দুর্নীতির তদন্তের প্রশ্নে বিজেপি সরকার পক্ষপাতিত্ব করে চলেছে। ইডি, সিবিআই, সিভিসি, আয়কর বিভাগসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যত তদন্ত চালাচ্ছে ও যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, ৯৫ শতাংশই বিরোধী শিবিরের। শাসকদলীয় নেতা ও শাসকপ্রিয় ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্ত।