তামিলনাড়ুতে আতশবাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে ২০ জনের মৃত্যু

পুলিশ বলছে, কাট্টানাপট্টির ওই পটকা তৈরির কারখানায় প্রায় ৩০ শ্রমিক নিয়মিত উৎপাদন কাজ করছিলেন। তাঁদের কাজ চলার সময় হঠাৎই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছবি: এএনআই

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিস্ফোরণের ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও এই প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘বিরুধুনগর জেলার কাট্টানাপট্টিতে আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আমি সম্মানিত মন্ত্রী কে কে এস এস আর রামচন্দ্রন এবং থাঙ্গাম থেন্নারাসুকে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করা, তদারকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছি।’

স্ট্যালিন আরও বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই আমি ডিস্টিক্ট কালেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা কাজে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছি।’

স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য একসঙ্গে মেশানোর সময় বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে।

পুলিশ বলছে, কাট্টানাপট্টির ওই আতশবাজি তৈরির কারখানায় প্রায় ৩০ শ্রমিক নিয়মিত উৎপাদনকাজ করছিলেন। তাঁদের কাজ চলার সময় হঠাৎই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কারখানার অন্তত চারটি কক্ষ ধ্বংস হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে বলে জানা গেছে।

বিস্ফোরণের পর পাশ্ব৴বর্তী শিবকাশী, সাতুর, বিরুধুনগরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত আশপাশের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে। বিস্ফোরণের কারণ কী এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাবিধি মেনে চলেছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে তারা।