অনুব্রতর মেয়েকে জেরা করতে বাড়িতে সিবিআইয়ের দল

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের গ্রেপ্তার হওয়া নেতা অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যাকে জেরা করতে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের একটি দল তাঁর বাড়িতে যায়। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দলটি বোলপুরের নিচুপট্টিতে অনুব্রতের বাড়িতে কিছুক্ষণ থেকে পরে চলে আসে।

সিবিআই ইতিমধ্যে অনুব্রতের মেয়ের নামে ১০টি সম্পত্তির হদিস পেয়েছে। সেই সব সম্পত্তি এবং অনুব্রত মেয়ের ব্যাংক হিসাব ও অর্থের উৎস নিয়ে আজ জেরা করার কথা ছিল। জেরার পর আজ সুকন্যাকে নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সিবিআই ও ইডি পশ্চিমবঙ্গের দুই শক্তিধর নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এর প্রথমজন হলেন রাজ্যের সাবেক শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আর শেষজন হলেন বীরভূমের তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রত গ্রেপ্তার হয়েছেন গত বৃহস্পতিবার আর পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন গত ২৩ জুলাই। এই দুই নেতার গ্রেপ্তারের পর তৃণমূল রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বেফাঁস মন্তব্যের ঝড়।

গতকালই তৃণমূলের মুর্শিদাবাদের বিধায়ক ও নেতা ইদ্রিশ আলি কলকাতায় এক সভায় যোগ দিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘মমতার নিন্দা এই রাজ্যবাসী সহ্য করবে না। মমতা আমাদের সততার প্রতীক। মমতাকে যেন নিন্দা করা না হয়। নিন্দা করলে নিন্দাকারীর জিব কেটে নেওয়া হবে।’

এদিকে রাজ্যজুড়ে বিজেপি জারি রেখেছে ‘চোর ধরো, জেলে ভরো আন্দোলন’। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার গতকাল বলেছেন, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বিজেপির রাজ্য সচিবালয় নবান্ন ঘেরাওয়ের দিনে সব কর্মীকে ডান্ডা হাতে ঘেরাও অভিযানে শামিল হতে হবে।

এদিকে তৃণমূলও বসে নেই, তারাও বিজেপির বিরুদ্ধে সিবিআই ও ইডি দিয়ে হেনস্তা করার প্রতিবাদে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। তারা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর প্রতীক বানিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে শহর ঘুরিয়েছে। দাবি তুলেছে, সারদা-নারদা মামলায় শুভেন্দুকে গ্রেপ্তারের।

এদিকে তৃণমূলের সেই নেতা সৌগত রায় এবার অনুব্রতের পথ ধরে বেফাঁস মন্তব্য করে নতুন করে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সৌগত রায় সাবেক অধ্যাপক। তিনি সাধারণত খুব কম বেফাঁস মন্তব্য করতেন। গতকাল রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে এক জনসভায় সৌগত বলেন, ‘এই রাজ্যে আমাদের সরকারই চলবে। যারা আমাদের বেশি নিন্দা করছে, এরপর আমি বলব, তৃণমূলের সমালোচকদের গায়ের চামড়া দিয়ে পায়ের জুতো তৈরি হবে। ওই দিনের জন্য অপেক্ষা করুন।’

দমদমের এই সংসদ সদস্য হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেছেন, ‘বিজেপি ও সিপিএমের কারও ক্ষমতা নেই মিছিল করার। তাঁদের আমি আজ হুঁশিয়ারি দিয়ে গেলাম, কামারহাটিতে কেউ ‘চোর চোর’ বলে মিছিল করলে তাঁদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে করে ওদের পার্টি অফিসেই ঢুকে যেতে হবে। বের হতে পারবে না।’

সৌগত রায়ের এসব মন্তব্যের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘একজন অধ্যাপকের মুখ থেকে এসব কথা বেরিয়ে আসায় লজ্জায় আমাদের মাথা হেট হয়ে গেছে। কারণ, আমি নিজেও একজন অধ্যাপক। বলেন, আজ তৃণমূলের সৌজন্যে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেভাবে নর্দমায় পৌঁছে গেছে, সৌগত রায় তাই প্রমাণ করলেন।’

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এসব কথা বললে অনেকেই মেনে নিতেন। কিন্তু যখন সৌগত রায় বলেছেন, তখন আমাদের বুঝে নিতে হবে, তৃণমূলের রাজনীতির সংস্কৃতি কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে? আসলে মানুষ ঘাবড়ে গেলে এসব কথা বলে!’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আবার একহাত নিয়ে বলেছেন, ‘সৌগত রায় এমন কথা বলার লোক নন; চাপে পড়ে বলছেন। তৃণমূল নেতারা চাপ দিচ্ছেন, বলছেন এভাবে গালাগালি দিতে হবে।’