সেদিন অজিত পাওয়ারের উড়োজাহাজ চালানোর কথা ছিল না পাইলট সুমিতের: বন্ধুদের দাবি
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বারামতিতে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ যে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের একজন হচ্ছেন ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর। তাঁর বন্ধুদের দাবি, ওই দিন অজিত পাওয়ারকে বহনকারী উড়োজাহাজ তাঁর চালানোরই কথা ছিল না। অন্য একজন পাইলট যানজটে আটকে যাওয়ায় তাঁর পরিবর্তে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সুমিত কাপুরের শেষকৃত্যের সময় তাঁর বন্ধুরা এনডিটিভিকে জানান, তিনি কয়েক দিন আগেই হংকং থেকে ফিরেছিলেন। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি অজিত পাওয়ারকে নিয়ে মুম্বাই থেকে পুনে জেলার বারামতি যাওয়ার নির্দেশ পান।
২৮ জানুয়ারি নির্বাচনী জনসভার জন্য মুম্বাই থেকে অজিত পাওয়ারকে তাঁর নিজের শহর বারামতিতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পড়েছিল সুমিত কাপুরের ওপর। সকাল ৮টা নাগাদ ‘ভিএসআর ভেঞ্চারস’ নামক দিল্লিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের লিয়ারজেট ৪৫ উড়োজাহাজে চড়ে তাঁরা রওনা হন। এতে অজিত পাওয়ার ছাড়া আরও তিনজন যাত্রী ছিলেন।
সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বারামতি বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট শম্ভবী পাঠক, বিমানবালা পিংকি মালি ও পাওয়ারের নিরাপত্তারক্ষী বিদিপ যাদবসহ পাঁচজনই নিহত যান।
প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার কারণে রানওয়ের দৃশ্যমানতা কম থাকায় পাইলটের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে সুমিত কাপুরের বন্ধুরা এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, সুমিত কাপুর অত্যন্ত অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন। তাঁর ভুল করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাঁরা এই দুর্ঘটনার সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
বন্ধুরা সুমিত কাপুরকে একজন দয়ালু মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি উড়তে ভালোবাসতেন। তাঁর পরিবারের প্রায় সবাই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত—ছেলে ও মেয়েজামাই দুজনেই পাইলট। তাঁর এক ভাই দিল্লির উপকণ্ঠে গুরগাঁওয়ে ব্যবসা করেন।
সুমিতের বন্ধু শচীন তানেজা বলেন, হাতের ব্রেসলেট দেখে সুমিত কাপুরের মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। আরেক বন্ধু জিএস গ্রোভার স্মৃতিচারণা করে বলেন, হংকং থেকে ফিরে সুমিত কাপুর তাঁকে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।