তৃণমূল ছেড়ে আসা হুয়ায়ুন কবীর নতুন দলের নিবন্ধন পেলেন, সঙ্গে বিশেষ নিরাপত্তা

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক হুমায়ুন কবীরছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল ‘আম-জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গড়ে তার নিবন্ধন পেয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গত ২২ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। দলটির নাম রাখেন জনতা উন্নয়ন পার্টি। ঘোষণা দেন, দলটি হবে ধর্মনিরপেক্ষ। সেই নামের নিবন্ধন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন হুমায়ুন কবীর। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ওই একই নামে এই রাজ্যে আরেকটি দল রয়েছে। এরপর হুমায়ুন কবীর দলের নাম বদলে ‘আম’ কথাটি যোগ করে নতুন করে নাম রাখেন ‘আম-জনতা উন্নয়ন পার্টি’। গতকাল বুধবার সেই নামের নিবন্ধন পেয়েছেন রাজ্য নির্বাচন দপ্তর থেকে।

এদিকে এই দল গড়তে গিয়ে হুমায়ুন কবীর নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনও গতকাল মঞ্জুর করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়। তাঁর নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হবে ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা। থাকবে তাঁর সঙ্গে ১২ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দল। এই দলে থাকবেন ১ জন ইন্সপেক্টর, ১ জন সহকারী ইন্সপেক্টর ও ১০ জন কনস্টেবলের একটি টিম। গতকালই হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তা টিমটি পৌঁছে গেছে হুমায়ুনের মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বাসভবনে।

গত ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন হাজারো মানুষের সামনে। তখনই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২২ ডিসেম্বর তিনি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও মমতাবিরোধী নতুন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল গড়বেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে ২২ ডিসেম্বর হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার খাগড়পাড়া মোড়ে এক বিশাল জনসভার মাধ্যমে নতুন দল গড়ার ঘোষণা দেন।

হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন।

হুমায়ুন কবীর সেদিন দল ঘোষণার পর ঘোষণা করেছিলেন, বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনে জিতবে তাঁর দল। ২০২১ সালের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন একটি দল গঠন হয়েছিল এই রাজ্যে। দলের নাম ছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ। সেই দলে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একজন বিধায়কও হয়েছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙর আসনে। তিনি হলেন নওশাদ সিদ্দিকী। তবে গত নির্বাচনে কংগ্রেস বা বাম দল রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে একটি আসনেও জিততে পারেনি। তৃণমূল জিতেছিল ২১৩টি আসনে আর বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসনে।