কলকাতায় আগুনে পোড়া হোটেলমালিককে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ

কলকাতার একটি গেস্টহাউস পরিদর্শন করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লাগিয়ে দিয়েছেন নোটিশ ২১ আগস্ট ২০২৬, কলকাতাছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মীর্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা-ইনের মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে চার দিনেও খুঁজে পায়নি পুলিশ। তাঁর খোঁজে কলকাতার পর পূর্ব মেদিনীপুরের পর্যটনকেন্দ্র দিঘা ও মন্দারমণিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

কলকাতার লালবাজারের পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহাকে এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, দিঘা, মন্দারমণিসহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল-গেস্টহাউস সরকারি নিয়মবিধি মেনে চলছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে।

পুলিশের সন্দেহ, কলকাতার হোটেল শিখা-ইনের মালিক তাঁর নিউ দিঘা ও মন্দারমণিতে থাকা হোটেলে আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। হোটেলমালিক বীরেশ্বর মিত্র শুধু মীর্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা-ইনের মালিক ছিলেন না; শিখা–ইন ছিল ওই ভবনের তৃতীয় তলায়। তাঁর আরেকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে একই ভবনের পঞ্চম তলায়।

তৃতীয় তলার শিখা-ইন ১১ মাসের চুক্তিতে আবু জাফর নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে ইজারা দিয়েছিলেন বীরেশ্বর। আর পঞ্চম তলার হোটেল ইজারা দিয়েছিলেন উমেশ সিং ও জিতেন সিং নামের অন্য দুই ব্যবসায়ীর নামে। পুলিশ ইতিমধ্যে উমেশ ও জিতেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হোটেল শিখা-ইনের ৯ জন পর্যটক নিহত হন। এর মধ্যে ৭ জনের বাড়ি বাংলাদেশে। নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্য।

নিহত এই ৯ পর্যটক ও হোটেলকর্মীর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন গতকাল হাতে পেয়েছে পুলিশ। তাতে বলা হয়েছে, দমবন্ধ হয়েই ওই ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মিলেছে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত।

কলকাতা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কলকাতা পৌর করপোরেশন অন্তত ৫০টি হোটেল ও গেস্টহাউসে পরির্দশন করেছে। হোটেল বিধি না মেনে চলায় এসব হোটল-গেস্টহাউসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে। বলা হয়েছে, এর মধ্যে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। না হলে ওই সব হোটেল-গেস্টহাউসের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে।

যদিও এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, দুর্ঘটনাকলবিত হোটেল শিখা-ইনের ফায়ার সার্ভিস বিভাগের ছাড়পত্র ছিল না। এ দুর্ঘটনার পর কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা হোটেল, গেস্টহাউসে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, এক্সিট পথ ঠিক করার কাজ চলছে। ফায়ার এক্সটিংগুইশার লাগানো হচ্ছে।

গতকাল পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও পৌর করপোরেশন প্রায় ৫০টি হোটেল-গেস্টহাউস ও রেস্তোরাঁয় নোটিশ লাগিয়ে দিয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এসব হোটেল-গেস্টহাউস ও রেস্তোরাঁর মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার ১৭টি, মীর্জা গালিব স্ট্রিটে ১৩টি, মারকুইস স্ট্রিটের ১৫টি, এসএন ব্যানার্জি রোডের ১টি এবং তপশিয়ার ১টি হোটেল রয়েছে। কোনো কোনো হোটেল-গেস্টহাউস আবার বন্ধ করে দেওয়ারও নোটিশ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।