এদিকে স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, অর্পিতাকে বাড়িটি কিনে দিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর ‘অপা’ নামকরণ হয়েছে অর্পিতার নামের আদ্যক্ষর ‘অ’ এবং পার্থর নামের আদ্যক্ষর ‘পা’ থেকে। ওই বাড়িতে নিয়মিত ছুটি কাটাতে যেতেন অর্পিতা। তবে পার্থকে সেখানে কখনো দেখা যায়নি।

দক্ষিণ কলকাতার কসবায় ‘ইচ্ছে’ নামে অর্পিতার আরেকটি বাসভবন রয়েছে। এই বাড়িতে যেতেন তিনি ও পার্থ। বাড়িটি তৈরিতে কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কসবার রাজডাঙ্গা প্রধান সড়কের পাশে আড়াই কাঠা জমির ওপর তৈরি হয়েছে বাড়িটি।

এর বাইরে অর্পিতার টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় ৫০ কোটি রুপি উদ্ধার করেছে ভারতের আর্থিক কেলেঙ্কারি তদন্তে নিয়োজিত এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি। এ নিয়ে এখন গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। এই অর্থ উদ্ধারের পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্থ তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব ছিলেন। দলীয় ওই পদ থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সে সময় সরকারি স্কুলের শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে পার্থ এই অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কলকাতার মডেল–অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তাঁর বাসাকে ‘মিনি ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এখন প্রতিদিনই নতুন করে সামনে আসছে পার্থ-অর্পিতার অবৈধ সম্পত্তির তালিকা। ইডি মনে করছে, তাঁদের নামে-বেনামে ১০০ কোটি রুপির সম্পত্তি রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে পার্থ এখন ইডির হেফাজতে রয়েছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন