ভারতের ইন্টারনেট সেন্সরশিপ নিয়ে মাস্ক আর মোদির মধ্যে কীভাবে লড়াই চলছে

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলন মাস্কের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিছবি: রয়টার্স

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছুদিন আগেরও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি পুরোনো পোস্ট গত জানুয়ারিতে ভারতের সাতারা শহরের পুলিশকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ২০২৩ সালের সে পোস্টে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে ‘অকেজো’ বা ফালতু বলা হয়েছিল। পোস্টদাতা অ্যাকাউন্টটির অনুসারীর সংখ্যা ছিল কয়েক শ মাত্র।

মহারাষ্ট্র রাজ্যের সাতারার পুলিশ পরিদর্শক জিতেন্দ্র শাহানে এক্স কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে পুরোনো এ পোস্টটি সরিয়ে নিতে বলেন। ‘গোপনীয়’ চিহ্নিত করা নোটিশটিতে তিনি লেখেন, ‘এই পোস্ট ও এর বিষয়বস্তু মারাত্মক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।’

তবে পোস্টটি এখনো বহাল আছে। গত মার্চে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এক্স কর্তৃপক্ষ। মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে মোদি প্রশাসনের ঢালাও অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে শত শত পোস্টের নজির দিয়েছে এক্স। এটাও তার মধ্যে আছে।

২০২৩ সাল থেকে ভারত সরকার ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কর্মকর্তা কনটেন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। গত বছরের অক্টোবরে চালু হওয়া একটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁরা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সরাসরি এসব নির্দেশ পাঠাতে পারছেন।

এক্স কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতের এসব পদক্ষেপ অবৈধ ও অসাংবিধানিক। তাদের অভিযোগ, এগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে। এগুলোর মাধ্যমে বহু সরকারি সংস্থা এবং হাজারো পুলিশ কর্মকর্তা প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কে করা ন্যায্য কোনো সমালোচনাও দমন করার ক্ষমতা পাচ্ছেন।

আদালতে দাখিল করা নথিতে ভারত সরকার বলেছে, তাদের এই কৌশল অনলাইনে বেআইনি কনটেন্টের বিস্তার রোধ করছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করছে। তারা দাবি করেছে, মেটা এবং অ্যালফাবেটের গুগলসহ অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি ভারতের এসব পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। অবশ্য মেটা ও অ্যালফাবেটের কাছে রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইলন মাস্ক নিজেকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরম সমর্থক’ বলে থাকেন। তিনি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কনটেন্ট অপসারণ ও নিয়মনীতি মানা নিয়ে একাধিকবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন।

ইলন মাস্ক নিজেকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরম সমর্থক’ বলে থাকেন। তিনি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কনটেন্ট অপসারণ ও নিয়মনীতি মানা নিয়ে একাধিকবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন।

কিন্তু বিশ্বজুড়েই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে। এই পটভূমিতে কর্ণাটক হাইকোর্টে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মাস্কের করা মামলাটি ভারতে কঠোরভাবে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিকেই আমূল চ্যালেঞ্জ করে। ভারতকে এক্স ব্যবহারকারীদের বড় অঞ্চলগুলোর একটি বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

২০২৩ সালে মাস্ক বলেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি বিশ্বের যেকোনো বড় দেশের চেয়ে অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। তিনি বলেছিলেন, মোদি তাঁকে সেখানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দিয়েছেন।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি মাস্ক আর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ ভারতের কর্তৃপক্ষের মধ্যে নেপথ্যে চলমান লড়াইয়ের এই বিবরণের ভিত্তিতে রয়েছে রয়টার্সের একটি খতিয়ান। রয়টার্স আড়াই হাজার পৃষ্ঠার বেসরকারি আইনি দলিল-নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে এবং কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধের সঙ্গে যুক্ত সাতজন পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

এই খতিয়ান গোপনীয়তায় ঢাকা একটি কনটেন্ট অপসারণব্যবস্থাকে উন্মোচিত করেছে। এক্সে ‘বেআইনি’ সাব্যস্ত কিছু বিষয় এবং পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সেন্সর করা কনটেন্টের বিস্তৃত ক্ষেত্র সম্পর্কে ভারতীয় কয়েকজন কর্মকর্তার ক্ষোভের হদিস মিলেছে।

নথিপত্র দেখাচ্ছে, পোস্ট সরিয়ে ফেলার আদেশগুলোর মধ্যে ভুল তথ্য ঠেকানোর উদ্যোগও ছিল। কিন্তু মোদি সরকারের নির্দেশে একটি ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার খবরও মুছে ফেলা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ এমন কিছু কার্টুনও মুছে ফেলতে বলেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে নেতিবাচকভাবে আঁকা হয়েছে অথবা স্থানীয় নেতাদের ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে সাড়া পাওয়া যায়নি। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার কারণে তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলবে না। মোদির কার্যালয় এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

মাস্ক আর মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার মতো কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। প্রকাশ্যে তাঁদের সম্পর্ক বরাবরই উষ্ণ। কিন্তু মুখোমুখি আইনি যুদ্ধ এমন এক সময়ে এল, যখন মাস্ক ভারতে তাঁর মালিকানাধীন কোম্পানি টেসলার তৈরি গাড়ি আর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট–‍সেবা স্টারলিংকের ব্যবসা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

মোদির দল বিজেপির সমর্থকেরাও পুলিশের নজরে এসেছেন। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বার্তা চালাচালি খতিয়ে দেখছেন।

বহু বছর ধরে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ই কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার আদেশ দিতে পারত। কিন্তু সেটা শুধু দেশের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, জনশৃঙ্খলা বা দেশের সম্পর্কের জন্য হুমকি থাকলে। ৯৯ জনের মতো কর্মকর্তা কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করতে পারতেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নেওয়াটা মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকত।

বিজেপির নেতা কৌস্তভ বাগচি গত মার্চে এক্সে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নভোচারীর পোশাকে দেখানো হয়েছে। এটাকে জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে রাজ্যের পুলিশ এটা সরিয়ে ফেলতে বলেছে।

তবে পোস্টটি এখনো বহাল আছে। বাগচি রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি মজা করে এটা পোস্ট করেছিলেন। তিনি বলছেন, পোস্টটি সরিয়ে ফেলার আদেশের কথা জানেন না। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাজ্য পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে সাড়া পায়নি রয়টার্স।

প্রতিবেদনের শুরুতে ২০২৩ সালের যে পোস্টের কথা বলা হয়েছে, সেটি সরিয়ে ফেলার আদেশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাতারা পুলিশ কর্মকর্তা জিতেন্দ্র শাহানে রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি ওই পোস্টের অপসারণ আদেশের কথা মনে করতে পারছেন না। তবে তিনি বলেছেন, কখনো কখনো পুলিশ আগেভাগেই প্ল্যাটফর্মগুলোকে আপত্তিকর বা ভাইরাল কনটেন্ট ব্লক করতে বলে রাখে।

ইলন মাস্ক ও নরেন্দ্র মোদি
রয়টার্স ফাইল ছবি

‘সেন্সরশিপ পোর্টাল’

বহু বছর ধরে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ই কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার আদেশ দিতে পারত। কিন্তু সেটা শুধু দেশের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, জনশৃঙ্খলা বা দেশের সম্পর্কের জন্য হুমকি থাকলে। ৯৯ জনের মতো কর্মকর্তা কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার সুপারিশ করতে পারতেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নেওয়াটা মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকত।

এই নিয়ম এখন পর্যন্ত বহাল আছে। তবে ২০২৩ সালে মোদি সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কেন্দ্র ও রাজ্যের সব সংস্থা আর পুলিশকে ‘যেকোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ যেকোনো তথ্য’ অপসারণের নোটিশ জারি করার ক্ষমতা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা (ডিরেক্টিভ) জারি করে বলেছে, বিদ্যমান আইনের আওতাতেই এ কাজটা করা যাবে। তারা আরও বলেছে, ‘কার্যকর’ কনটেন্ট অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য এটা দরকার।

যদি কোনো কোম্পানি এই নোটিশ অমান্য করে, তাহলে তারা ব্যবহারকারীদের কনটেন্টের বিষয়ে দায়মুক্তির সুযোগ হারাবে। তারা তখন ব্যবহারকারীদের মতোই শাস্তি পেতে পারে। শাস্তি কী হবে, তা সুনির্দিষ্ট পোস্টের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করবে।

মোদি সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আরেক ধাপ এগিয়ে একটি ওয়েবসাইট চালু করে। ওয়েবসাইটটির নাম দেওয়া হয় ‘সহযোগ’। কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নোটিশ দেওয়া সহজ করার জন্য এই ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। ভারতের কর্মকর্তাদের এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এই ওয়েবসাইটে যুক্ত হতে বলা হয়েছে। আদালতের নথিপত্রে এমনটা উল্লেখ করা আছে।

এক্স ‘সহযোগ’ ওয়েবসাইটে যোগ দেয়নি। তারা এটাকে ‘সেন্সরশিপ পোর্টাল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। নতুন ওয়েবসাইট এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের নির্দেশনার আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে তারা এ বছরের গোড়ার দিকে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

২৪ জুন জমা দেওয়া নথিতে এক্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, ক্ষমতাসীন সরকারকে সমালোচনা বা ব্যঙ্গ করা বিষয়বস্তু অপসারণের জন্য কিছু আদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বাক্স্বাধীনতা দমনের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি ধারা সুস্পষ্ট হচ্ছে।

বাক্স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের কেউ কেউ সরকারের কনটেন্ট অপসারণ-সংক্রান্ত কঠোর নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলছেন, এটা মূলত ভিন্নমত দমন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ককুলা সেন্টার ফর অ্যাপ্লায়েড এথিকস-এর সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নৈতিকতা–সংক্রান্ত বিভাগের পরিচালক সুব্রামানিয়াম ভিনসেন্ট বলেন, ‘সরকার যদি বলে কোনো কনটেন্ট বেআইনি, শুধু সে কারণে কি সেটাকে সত্যিই বেআইনি বলা যাবে?’

ভিনসেন্ট আরও বলেন, রাষ্ট্রের নির্বাহী শাখা একই সঙ্গে গণমাধ্যমের কনটেন্ট বা আধেয় আইনসম্মত কি না, তার বিচার করতে এবং কনটেন্ট অপসারণের নোটিশ দিতে পারে না।

সহযোগ ওয়েবসাইট

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে রয়টার্স দেখতে পেয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাগুলো এক্সকে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলতে আদেশ করেছে।

এর মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি আদেশ দিয়েছে ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার। এ সংস্থাটিই ‘সহযোগ’ ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। সংস্থাটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। সে মন্ত্রণালয়ের মাথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি ক্ষমতাসীন বিজেপির ক্ষমতাবান নেতা।

এক্সের বিরুদ্ধে মামলা মোকাবিলায় ভারত সরকার ৯২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। সেখানে বলা হয়েছে, এক্স ‘অবৈধ বিষয়বস্তু’কে স্থান দিচ্ছে। এ ইউনিট ভুল তথ্য, গুজব-ঠগবাজি, এবং শিশুদের যৌন নির্যাতনের বিষয়বস্তুসহ তাদের কাছে অবৈধ মনে হওয়া প্রায় ৩০০টি পোস্ট বিশ্লেষণ করেছে।

ভারত সরকারের অভিযোগ, এক্স হিংসা ও বিভাজন ছড়ানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা সমাজের শান্তিকে বিপন্ন করছে। এ ছাড়া এক্সে প্রচলিত ‘মিথ্যা খবর’ আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সমস্যা (অনির্দিষ্ট) তৈরি করছে। এক্সের করা মামলার সরকারি জবাবে ভুল তথ্য ছড়ানোর উদাহরণ গুরুত্ব পেয়েছে।

গত এপ্রিলে চেন্নাই পুলিশ এক্সকে ‘গভীরভাবে আপত্তিকর’ ও ‘উসকানিমূলক’ অনেক পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ছিল একটি কার্টুন, যেটা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। কার্টুনে ‘মুদ্রাস্ফীতি’ লেবেল দিয়ে একটি লাল ডাইনোসর আঁকা ছিল। সেখানে আরও দেখানো হয়েছে, মোদি ও তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন।

সে মাসেই অন্য একটি কার্টুনও সরিয়ে ফেলতে বলে পুলিশ। ওই কার্টুনে রাজ্যের বন্যা মোকাবিলায় অপর্যাপ্ত প্রস্তুতিকে উপহাস করে তলায় ফুটো হওয়া এক নৌকা আঁকা রয়েছে। চেন্নাই পুলিশ বলেছিল, ওই পোস্টের কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তবে আদালতে বিচারককে এক্স কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওই কার্টুন নভেম্বর মাসে পোস্ট করা হয়েছিল। কয়েক মাস পরে এটাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই। ওই পোস্ট এখনো অনলাইনে আছে।

রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল, তবে রাজ্য সরকার কোনো সাড়া দেয়নি।

চেন্নাই সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশন থেকে ওপরের আদেশগুলো দেওয়া হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিনিধি সেখানে গেলে উপকমিশনার বি গীতা বলেন, এক্স কর্তৃপক্ষ খুব কম সময়ই কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার অনুরোধ মান্য করে। তিনি এ নিয়ে এক্সের সমালোচনা করেন।

বি গীতা বলেন, ‘এক্স ভারতের সাংস্কৃতিক স্পর্শকাতরতা পুরোপুরি বোঝে না। যা হয়তো কিছু দেশে গ্রহণযোগ্য, তা ভারতে নিষিদ্ধ বা অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হতে পারে।’