মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা, ঘরবাড়িতে আগুন, গুলিতে বিদ্যুৎকর্মী নিহত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থানফাইল ছবি: এএনআই

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে জাতিগত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

গত বুধবার ভোররাতে রাজ্যের তামেনংলং, ননে ও কাংপোকপি জেলার অন্তত আটটি গ্রামে একযোগে সশস্ত্র হামলা হয়। গ্রামগুলোর মধ্যে পাঁচটি নাগা–অধ্যুষিত, তিনটি কুকি-অধ্যুষিত। হামলা চালিয়ে বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গুলিতে এক বিদ্যুৎকর্মী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বুধবার ভোর চারটার দিকে হামলাকারীরা তামেনংলং ও কাংপোকপির সীমান্তবর্তী লসান, সংপিবুং, টি খোলমুন নামের তিনটি কুকি গ্রামে ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলি শুরু করে।

সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের লাইন মেরামত করতে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন পাওজাঙ্গাম চোংলোই (৩৬) নামের এক বিদ্যুৎকর্মী।

এই ঘটনার পর কাংপোকপি থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করেন লসান গ্রামের প্রধান।

প্রায় একই সময়ে কাংপোকপি ও ননে জেলার মাকুই চামরিউপিউ, লাংকা, থানাম্বা, তা জেইকাইফুন, কাপনিংচিং মুক্তিসহ পাঁচটি নাগা–অধ্যুষিত গ্রামেও সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। আতঙ্কে গ্রামবাসী পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

হামলাকারীরা কাপনিংচিং মুক্তি গ্রামের চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে গ্রামের সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

মাকুই চামরিউপিউ গ্রাম কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারের সঙ্গে হওয়া ‘সাসপেনশন অব অপারেশন’ চুক্তির আওতায় থাকা কেএনএফ (পি), কেএনএফ (এন), কেআরএর মতো বেশ কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে।

মণিপুরে জাতিগত সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। জাতিগত সংঘাতে মণিপুরে হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়েছে। অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।