পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার

কলকাতার গ্যাসের ডিস্ট্রিউিটরদের দপ্তরে গ্যাস বুকিং করার লাইনছবি: ভাস্কর মুখার্জি।

পশ্চিমবঙ্গে এখন চলছে রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার। কয়েক দিন ধরেই গ্যাস কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটররা গ্যাসের বুকিং না নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ।

গত বৃহস্পতিবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের শংকর গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস বুকিংয়ের জন্য গ্রাহকদের বিরাট লাইন।

সেই লাইন নিয়ে যখন কাউন্টারে পৌঁছানো গেল, তখন কর্মকর্তারা একটি ফোন নম্বর ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘রাত ৯টার পর থেকে চেষ্টা করুন ওই নম্বরে ফোন করার। ভাগ্য থাকলে ফোন ধরবে। বুকিং নেবেন। তবে গ্যাস কবে পাবেন তার নিশ্চয়তা নেই।’
গ্যাস নিয়ে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন গ্যাসের সংকট ততটা নেই। গ্যাস মজুদ আছে, তবে একশ্রেণীর মানুষ অযথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

সুজাতা শর্মা আরও বলেন, দেশের ২৫ হাজার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে এখনও গ্যাস মজুদ আছে।

পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধের জন্য মাঠে নেমেছে। তারা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটরদের দপ্তরে হানা দিচ্ছে, মিলিয়ে নিচ্ছে কত গ্যাস এসেছে, কত বিতরণ হয়েছে, কত এখন গুদামে রয়েছে।

তবে পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, কিছু কিছু এলাকায় স্টকের সঙ্গে বিতরণের অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে রান্নার গ্যাসের অভাবে রাজ্যের সুন্দরবন অঞ্চলের মাছ ধরার ট্রলার মালিকেরা সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না। যখন মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে সমুদ্রে যান, তখন তাঁরা অন্তত তিন সপ্তাহের খাবার আর গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে পাড়ি দেন সমুদ্রে। এখন সেই সিলিন্ডারের অভাব দেখা দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, এই গ্যাসের আকালে মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে গিয়ে যদি ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের কাঠ কেটে আনে, তবে ক্ষতির মুখে পড়বে সুন্দরবন।

রাজ্যের সব বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে যে মিড-ডে মিল দেওয়া হয়, সেই মিড-ডে মিল রান্নার জন্য গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক স্কুলে আশপাশের জঙ্গল ও ঝোপঝাড় থেকে কাঠখুটো এনে সামাল দেওয়া হচ্ছে মিড-ডে মিল রান্নার কাজ।

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মাত্র পাঁচ রুপির বিনিময়ে খাবার দেওয়ার জন্য চালু করা মা ক্যান্টিনে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে গ্যাসের। এতে মা ক্যান্টিন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে রান্নার গ্যাসের তীব্র অভাব দেখা দেওয়ার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা গতকাল দিল্লির সংসদ ভবনের কাছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।