তবে বিজেপি এ অভিযোগ হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, রাজ্যের শাসক দল এ নাটক মঞ্চস্থ করেছে; যার রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও স্বয়ং।

গত আগস্টে শাসক টিআরএস বিজেপির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ এনে বলেছিল, তারা ১৮ জন বিধায়ক ভাঙাতে চাইছে। বিজেপি নিজেই এ ধরনের অভিযোগের ইন্ধন জুগিয়েছে। কারণ, কয়েক বছর ধরে তারা নির্বাচনে হেরে গিয়েও টাকার জোরে দল ত্যাগ করিয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকার দখল করেছে।

অভিযোগ, বিআরএসের ৪ বিধায়ককে দল বদলের জন্য বিজেপি ২৫০ কোটি টাকার টোপ দেয়। হায়দরাবাদের পুলিশ প্রধান স্টিফেন রবীন্দ্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, খামারবাড়ির মালিক বিধায়ক পাইলট রোহিত রেড্ডি। তিনিই পুলিশকে ‘বিধায়ক কেনাবেচার’ খবর দেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের দল বদলের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে; ভয়ও দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দল ত্যাগ না করলে ইডি, সিবিআই তল্লাশি শুরু করবে; ফৌজদারি মামলা দায়ের হবে।

ওই বিধায়কের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ খামারবাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে রাজ্যের এক বড় ব্যবসায়ী নন্দকুমারের সঙ্গে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়; যাঁদের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খামারবাড়ি থেকে ১৫ কোটি রুপিও উদ্ধার করা হয়েছে। বিজেপির ‘তৎপরতার’ বিরুদ্ধে ওই বিধায়ক পুলিশের কাছে এফআইআরও দাখিল করেছেন।

আগামী ৩ নভেম্বর তেলেঙ্গানায় মুনুগোডে বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। এর আগে এ অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। বিজেপি যদিও জোরের সঙ্গে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ক্ষমতায় আসতে হলে তাদের ৫০ জনের মতো বিধায়ক দরকার। সে ক্ষেত্রে চারজন পেয়ে কী লাভ? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের বিজেপি নেতা জি কিষান রেড্ডি পাল্টা জানতে চেয়েছেন, কে ২৫০ কোটি টাকার টোপ দিয়েছেন, তাঁর নাম জানানো হোক। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ রাজ্যের শাসক দলের এই চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত।

গত আগস্টে শাসক টিআরএস (তখনো নাম বদল হয়নি) বিজেপির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ এনে বলেছিল, তারা ১৮ জন বিধায়ক ভাঙাতে চাইছে। বিজেপি নিজেই এ ধরনের অভিযোগের ইন্ধন জুগিয়েছে। কারণ, কয়েক বছর ধরে তারা নির্বাচনে হেরে গিয়েও টাকার জোরে দল ত্যাগ করিয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকার দখল করেছে।

বিজেপি কর্নাটকে দল ভাঙিয়ে কুমারস্বামী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ দখল করেছে কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের সরকারের পতন ঘটিয়ে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ভাঙিয়ে পতন ঘটিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের সরকার।

সম্প্রতি ঝাড়খন্ডে এমন এক উদ্যোগ বানচাল হয় পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের তিন বিধায়ক টাকাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নিজেই বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ফেলার চক্রান্তের অভিযোগ এনেছিলেন। নাম জড়িয়েছিল আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার। এরপর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারও এই অভিযোগ এনে বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে বিকল্প সরকার গঠন করেন।

দিনকয়েক আগে আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছেন, বিজেপি পাঞ্জাবে তাঁদের দলের সরকার ফেলার জন্য বিধায়ক কেনাবেচায় উদ্যোগী হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানার শাসক দলের অভিযোগ সেই নিরিখে চতুর্থ।