‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভা চত্বরে তৃণমূলের বিক্ষোভ

বিধানসভা ভবনের চত্বরে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভে বিধায়কেরা। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত; ২০ মে ২০২৬ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চালু করা ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে দলটি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার ১৬ দিন পর বুধবার কলকাতার বিধানসভা ভবন চত্বরে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তৃণমূলের ৩৬ জন বিধায়ক।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব নেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধানসভা দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এ সময় তৃণমূলের বিধায়কেরা বি আর আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির সন্ত্রাসে মানুষ দিশাহারা। ঘরবাড়ি ছেড়ে গেছে অনেকে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির নির্বাচন–উত্তর সন্ত্রাস অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বুলডোজার সংস্কৃতিকে বিদায় দিতে হবে এবং হকারদের পুনর্বাসন করা ছাড়া কোথায়ও উচ্ছেদ করা চলবে না।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে তৃণমূলের নির্বাচিত বিধায়কদের হেনস্তা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের বিধানসভা দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। খেটে খাওয়া মানুষের রুটি–রুজির পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এসবের প্রতিবাদেই তৃণমূল এই আন্দোলনে নেমেছে।

শোভনদেব আরও বলেন, এই বাংলার মাটি সাধারণ মানুষ রক্ষার মাটি। এখানে বুলডোজার চালিয়ে সাধারণ মানুষের রুটি–রুজি বন্ধ করা যাবে না। পুনর্বাসন না করে কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না। এসব দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে বিজেপি সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তৃণমূল বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।