আমি জানতাম, উড়োজাহাজটি ভেঙে পড়ছে: ককপিটে তাঁর ওপর আক্রমণ নিয়ে বললেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকারী পাইলটের (কো-পাইলট) হামলায় আহত ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছার আজ শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি সেই নাটকীয় হামলা এবং সাহায্যের জন্য ককপিটের দরজা খোলার তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চ্যানেলে প্রকাশিত প্রায় ১০ মিনিটের ভিডিও ক্লিপে স্মিথ মছারকে নাকে টিউব এবং মাথা ও হাতে ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় আবুধাবির একটি হাসপাতালের বিছানা থেকে মোদির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার চোখ মুছেন।
পাইলট মছার বলেন, ‘আমি জানতাম, উড়োজাহাজটি নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে...আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম। আমি নিজেকে বলেছিলাম, দরজাটি ঠিক ওখানেই আছে, শুধু এটা খুলে দাও। আমি তা করতে পেরেছিলাম এবং লোকেরা ভেতরে ঢুকেছে।’
গত বুধবার ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার কথিত চেষ্টার সময় মছারকে তাঁর সহকারী পাইলট ছুরিকাঘাত করেন। ওই ঘটনার সময় ১৭৪ জন আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট (৪ হাজার ২৬৭ মিটার) নিচে নেমে গিয়েছিল।
মছার বলেন, ‘আমি ১৭ বছর ধরে উড়োজাহাজ চালাচ্ছি, ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। আমি জানতাম, উড়োজাহাজটি ভেঙে পড়ছে।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পাইলট মছারের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি অনেক প্রাণ বাঁচিয়েছে এবং ভারতীয় পাইলটদের সুনাম রক্ষা করেছে।
আবেগাপ্লুত মছার বলেন, ‘আমি জানি, ঈশ্বর আমাকে বাঁচিয়েছেন।’ মছার মোদির রাজ্য গুজরাটের বাসিন্দা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে জানান, মছার যখন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন, তখন তিনি রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন এবং মেঝের ওপর পড়েছিলেন।
মছারের সেই পদক্ষেপ যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের কো-পাইলটকে কাবু করতে সাহায্য করে। উড়োজাহাজে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের দ্বিতীয় এক জোড়া পাইলটকে এটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করার সুযোগ করে দেয়।