প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক বছর ধরে প্রতিটি সরকার দায়িত্বের সঙ্গে সন্ত্রাসের জাল ছিন্ন করেছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে সব ধরনের নিরাপত্তারক্ষীর মধ্যে সমন্বয় সাধন প্রয়োজন। এ বিপদ থেকে পরিত্রাণের উপায় আমাদের উদ্ভাবন করতে হবে। মাওবাদী-নকশালপন্থীরা যুবসমাজের মধ্যে দেশ সম্পর্কে অশ্রদ্ধা সৃষ্টি করছে। সমাজে বিভেদ ডেকে আনছে। উসকানি দিচ্ছে। বন্দুকধারী ও কলমধারী উভয়েই বিপজ্জনক। তাদের নির্মূল করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে ‘ফেক নিউজ’ বা মিথ্যা খবরের বিপদেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ছোট্ট একটা ফেক নিউজ সমাজে তোলপাড় সৃষ্টি করতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে এই ফেক নিউজ ছড়িয়ে দেওয়া কতখানি বিপজ্জনক, তা প্রত্যেককে বুঝতে হবে। সে জন্য নাগরিকদের শিক্ষিত হতে হবে। যারা এই কাজ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের কর্তব্য। নাগরিকদের স্বার্থেই আইন মেনে চলা  জরুরি।’

মোদি বলেন, ‘দিন যত এগোচ্ছে, অপরাধের চরিত্রও তত বদলাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি চলে আসছে। আজ আমরা ফাইভ-জি পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছি। আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। নতুন প্রযুক্তি বুঝতে হবে।’

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে বিজেপি সরকার নানাবিধ কঠোর আইন প্রয়োগ করছে, তা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে বিতর্কও ব্যাপক। চিন্তন শিবিরের ভাষণের সময় এমনই এক নতুন বিতর্কও প্রধানমন্ত্রী সৃষ্টি করলেন। বললেন, দেশের সব রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর পোশাক বা উর্দি এক রকম হওয়া উচিত কি না, তা ভেবে দেখা হোক। এ নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনা হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেন, এটা কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নিছকই একটা প্রস্তাব। ‘এক দেশ, এক পুলিশ উর্দি’ সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখা যেতে পারে। কেন এই প্রস্তাব, সেই যুক্তিতে মোদি বলেন, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি এখন কোনো এক রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অপরাধের চরিত্র বদলাচ্ছে।  তা আন্তরাজ্য ও আন্তর্দেশীয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণে সমন্বয় প্রয়োজন। সে জন্য আধা সেনা ও সেনাবাহিনীর মতো দেশের সব রাজ্যের পুলিশের পোশাক একটা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ব্যাখ্যা, সারা দেশের ডাক বাক্সের রং এক। সেই রং দেখেই মানুষ বুঝতে পারে ওটা ডাক বাক্স। ওখানে চিঠি ফেললে তা প্রাপকের কাছে পৌঁছে যাবে। পুলিশের পোশাকও তেমন অভিন্ন হওয়া উচিত, যাতে মানুষ বুঝতে পারে এরাই আইনশৃঙ্খলার রক্ষী। আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের এখতিয়ার। এই প্রস্তাব সেই অর্থে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হতে পারে।

বিজেপি একার ক্ষমতায় সরকার গঠনের পর থেকে তাদের মধ্যে সারা দেশের জন্য সবকিছু অভিন্ন করার এক প্রবণতা পরিলক্ষিত। এক দেশ, এক সংবিধান, এক পতাকার পর তারা এক দেশ এক রেশন কার্ড চালু করেছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের চেষ্টাও শুরু হয়েছে। সারা দেশকে এক ভাষা দিয়ে বাঁধতে হিন্দি চাপানোর চেষ্টা চলছে। তাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণের রাজ্যগুলোয় প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ‘এক দেশ এক পুলিশ উর্দি’র প্রস্তাব। এই প্রস্তাবও বিতর্ক উসকে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য কী রকম ব্যবহার করা উচিত, কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সে জন্য পর্যটন পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপরও তিনি জোর দেন।