ভারতে গত বুধবার হোলি (দোল উৎসব) উদ্‌যাপনের সময় হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক জাপানি নারী।

ভারত ছাড়ার পর জাপানি নারী টুইটারে একাধিক পোস্ট দেন। এ পোস্টে তিনি ভারতে হোলি উৎসবে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন।

জাপানি নারীর ভাষ্য, তিনি শুনেছিলেন, ভারতে দিনের বেলায় হোলি উৎসবে একা যাওয়াটা একজন নারীর জন্য খুবই বিপজ্জনক। তাই তিনি বেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে এ উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। উৎসবে গিয়ে তিনি হেনস্তার শিকার হন। এ ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

গত বুধবার দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক জাপানি নারীর গায়ে-মুখে রং মাখিয়ে দিচ্ছেন। নারীকে দেখে মনে হয়, তিনি অস্বস্তিতে আছেন। তাঁর মাথায় এক ব্যক্তিকে ডিম ভাঙতেও দেখা যায়।

ঘটনার পরদিন গত বৃহস্পতিবার জাপানি নারী তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি তা সরিয়ে ফেলেন।

জাপানি নারী বলেন, ভিডিওটির ব্যাপারে লোকজনের প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি ভিডিওসহ টুইটটি মুছে দিয়েছিলেন।

জাপানি নারী থানা-পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসে। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাটিকে আমলে নেয়।

পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক কিশোরসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তিনজনই পাহাড়গঞ্জের কাছের একটি এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

জাপানি নারী বলেছেন, ধরপাকড় অভিযান জোরদারের অঙ্গীকার করেছে পুলিশ। ফলে নারীদের হয়রানির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

জাপানি নারী অবশ্য তাঁর টুইটে ভারতের জন্য ভালোবাসাও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ভারতের সবকিছুই ভালোবাসেন। তিনি অনেকবারই দেশটিতে গেছেন। এটি দারুণ একটি দেশ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানি নারী গত শুক্রবার ভারত থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন।