বিবৃতিতে বলা হয়, নাগা সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজে না পাওয়ার দায় এনএসসিএনের নয়। আরও অভিযোগ করা হয়, এর দায়িত্ব ভারত সরকারের।

বিবৃতিতে এনএসসিএন জানিয়েছে তারা বরাবরই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চেয়েছে। এই চুক্তি নাগাদের সার্বভৌমত্ব এবং ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্ন এই দুটি বিষয়ের ভিত্তিতে করার কথা ছিল। এই লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট একটি 'ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট' তৈরি করা হয়েছিল। সেই চুক্তি যারা করেছিল নাগা জনগোষ্ঠী তাদের সম্মান করে।

এনএসিএনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক প্রতিনিধি আর এইচ রাইসিং অভিযোগ করেন, ভারত সরকার নিজের প্রতিশ্রুতি পালনে আন্তরিক নয়। ভারত সরকার প্রস্তাব করেছিল, বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গোটা নাগা জনগোষ্ঠীর জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান করা প্রয়োজন। 'প্যান নাগা হোহো' নামে সেই প্রতিষ্ঠান নাগাদের সংস্কৃতি, বিভিন্ন প্রথা, ঐতিহ্য, সমাজ এবং অন্যান্য স্বার্থকে সুরক্ষিত করবে। দুই পক্ষই এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নাগারা দেখছে ভারত সরকারের প্রতিনিধিরা এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়। এই প্রতিশ্রুতি ভারত সরকারের পালন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন রাইসিং।

নাগারা বরাবর উত্তর পূর্ব ভারতের যেসব রাজ্যে নাগা জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে তাদের বৃহত্তর নাগাল্যান্ডের মধ্যে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে একসময়ে মিয়ানমারও ছিল। এই লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে এনএসসিএন-আইএম তৈরি হয় যা এই মুহূর্তে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী যে গোষ্ঠী ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে তা হলো এনএসসিএন-আইএম। এই দলের নেতা থুইংগালেং মুইভা। এনএসসিএন-আইএম ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও, বরাবরই বলে এসেছে ভারতের সংবিধান এবং রাষ্ট্রকে তারা মানে না। ভারত সরকার দুই দশক আগে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

বিবৃতিতে এনএসসিএন বলেছে, ভারত সরকার নাগাল্যান্ডের পৃথক ইতিহাসের স্বীকৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে রাইসিং বলেছেন, তাদের নেতা মুইভা বারবার বলেছেন, নাগারা কোনোদিন ভারতের সঙ্গে থাকার বিষয় স্বীকৃতি দেয়নি এবং তাদের কোনো দিন যুদ্ধে হারিয়ে জয়ও করা যায়নি। ফলে ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের সংযুক্তিকরণ তারা মানবেন না। এনএসসিএন-আইএম বলছে, এ কারণে ভারত এবং নাগা জনগোষ্ঠী দুই পক্ষের উচিত পরস্পরের সংবিধান এবং পতাকাকে মেনে পতাকা এবং সার্বভৌমত্ব মেনে আলোচনায় বসা।

এনএসসিএন-আইএমের এমন বিবৃতির কারণে ভারত সরকারের সঙ্গে উত্তেজনা আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন