কর্ণাটক হাইকোর্ট এই মামলার রায়ে বলেছিলেন, হিজাব ইসলামে অপরিহার্য নয়। হিজাব পরে স্কুলে এলেও ক্লাসরুমে তা পরা যাবে না বলে কর্ণাটক সরকার যে নির্দেশ জারি করে, হাইকোর্ট তাকে বৈধতা দিয়েছিলেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছিল। ১০ দিন ধরে তার শুনানির সময় কর্ণাটক সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ ও অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রভুলিঙ্গ নভদগি। মুসলিম ছাত্রীদের পক্ষে সওয়াল করেন দুষ্যন্ত দাভে, হুজেফা আহমেদি ও কংগ্রেস নেতা আইনজীবী সলমন খুরশিদ।

বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ইসলামি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার (পিএফআই) কার্যালয় ও নেতাদের বাড়িতে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) অভিযান চালায়। হিজাবের পক্ষে আন্দোলনকারীদের এই সংগঠন মদদ দিচ্ছে এমন এক অভিযোগ কর্ণাটক সরকারের পক্ষ থেকে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে করা হয়েছিল

আইনজীবী দাভে ও হুজেফা আহমেদি সেই প্রসঙ্গে এজলাসে বলেন, পিএফআইয়ের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সলিসিটর জেনারেল যে কথা বলেছেন, তা অপ্রাসঙ্গিক ও বিদ্বেষপ্রসূত। বক্তব্যের সমর্থনে কোনো প্রমাণও দাখিল করা হয়নি। বিচারপতিরা অবশ্য ওই বিষয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণের কথা জানাননি। কোনো মন্তব্যও করেননি।

দাভে ও আহমেদি বৃহস্পতিবার বলেন, পবিত্র কোরআনে হিজাবের উল্লেখ রয়েছে। তা মানা মুসলমান নারীদের কর্তব্য। এ বিষয়ে যেকোনো রকমের বিধিনিষেধ মুসলমান নারীদের চেতনা ও আচরণগত গোপনীয়তার অধিকার খর্ব করে। তা ছাড়া এই নিষেধাজ্ঞা মুসলমান নারীদের শিক্ষার বিকাশের ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিজেপিশাসিত কর্ণাটক সরকার স্কুলে পোশাক নির্দেশিকা চালু করেছিল। তাতে হিজাব পরে ক্লাসে ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, যেসব স্কুলে পোশাকবিধি বা ইউনিফর্ম নির্দিষ্ট করা আছে, সেখানে সেই পোশাক পরেই ক্লাস করতে হবে। যেখানে পোশাকবিধি নেই, সেখানে এমন কিছু পরা যাবে না, যাতে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য নষ্ট হয়। কর্ণাটক সরকার এই নির্দেশকে সাম্প্রদায়িক মানতে নারাজ।

তাদের বক্তব্য, পোশাকবিধিতে গেরুয়া উত্তরীয়ও নিষিদ্ধ হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধে কিছু মুসলমান ছাত্রী কর্ণাটক হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। গত ১৫ মার্চ হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে রাজ্য সরকারের নির্দেশ বহাল রাখেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন