ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
ছবি: এএনআই

চাকরি ফিরে পেলেন জহুর আহমেদ বাট। গতকাল রোববার ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের ওই স্কুলশিক্ষকের স্থগিতাদেশ (সাসপেনশন) প্রত্যাহার করা হয়েছে। চিঠি দিয়ে তাঁকে জানানো হয়েছে, তিনি তাঁর কাজে যোগ দিতে পারেন। জহুর আহমেদ বাটের ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি দুই দিনের ছুটি নিয়ে দিল্লি এসে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজসংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন।

জহুর আহমেদ বাট জম্মু-কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের জওহর নগরের সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক। তিনি আইনের ডিগ্রিধারীও। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল হওয়া একগুচ্ছ মামলার এক পক্ষের আইনজীবী হিসেবে গত ২৩ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সওয়াল করেছিলেন। ২৫ আগস্ট তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জম্মুর স্কুলশিক্ষা বিভাগের পরিচালক জহুর আহমেদ বাটকে ‘সাসপেন্ড’ করে যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে বলা হয়েছিল, তিনি ‘জম্মু-কাশ্মীর সরকারি বিধি, জম্মু-কাশ্মীর সরকারি কর্মী আচরণবিধি ও জম্মু-কাশ্মীর সরকারি ছুটি বিধি’ ভঙ্গ করেছেন।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদসংক্রান্ত মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে চলছে। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের সামনে গত ২৮ আগস্ট বাটের সাসপেনশনের প্রসঙ্গ তোলেন আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি বলেন, ‘আইনের ডিগ্রিধারী একজন সরকারি শিক্ষক ছুটি নিয়ে দিল্লি এসে এই মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই অপরাধে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই খবর সত্য হলে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি বি আর গাভাই ওই অভিযোগের পর মন্তব্য করেন, ‘এটা সত্য হলে, তা প্রতিশোধস্পৃহা বলেই গণ্য হবে।’

প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় এজলাসে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি ও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে অভিযোগের সত্যাসত্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘খবরের কাগজের সব খবর সত্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তা ছাড়া ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে আদালতে হাজির হন। এর পেছনে অন্য কারণ আছে।’

সরকার পক্ষের সাফাইয়ের বিরোধিতা করে কপিল সিবাল তখন বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন মামলায় হাজির হওয়া যদি কারণ হয়ে থাকে, তা হলে আগে তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা কেন হয়নি? কেন এই মামলায় হাজির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা করা হলো?’ প্রধান বিচারপতিও সরকারি সিদ্ধান্তের ‘টাইমিং’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে হাজির হওয়ার এক দিন পর সাসপেন্ড করা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। দুই ঘটনা সম্পর্কযুক্ত হলে, সেটা নিশ্চিতই গুরুতর এবং এ ক্ষেত্রে তেমন মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।’

আরও পড়ুন

কাশ্মীরে মুসলিম অধ্যাপক বরখাস্ত, সুপ্রিমকোর্টের হস্তক্ষেপ

সলিসিটর জেনারেলের উদ্দেশে বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কলও ‘টাইমিং’-এর উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘সংবিধানে এত স্বাধীনতার কথা বলার উদ্দেশটা কী? এজলাসে সওয়াল করা ও সাসপেনশনের নির্দেশ কি একেবারে গায়ে গায়ে নয়?’ তিনি বলেন, ‘অন্য কারণ থাকলে আলাদা, কিন্তু এই এজলাসে এসে সওয়াল করা কারণ হয়ে থাকলে, তা উদ্বেগের।’

প্রধান বিচারপতি এরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল ও সলিসিটর জেনারেলকে জানিয়েছিলেন বিষয়টি নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার সঙ্গে কথা বলতে।