ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় ইডি গত জুন মাসে পাঁচ দিন ধরে রাহুল গান্ধীকে জেরা করে। জুলাই মাসে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করে অসুস্থ কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে। বুধবার দিল্লিতে ন্যাশনাল হেরাল্ড ভবন সিল করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘিরে ফেলা হয় আকবর রোডে কংগ্রেস সদর দপ্তর। ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধী ও ১২ তুঘলক লেনে রাহুল গান্ধীর বাসভবনও মুড়ে দেওয়া হয় পুলিশ দিয়ে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আক্রমণাত্মক রাহুল বলেন, ব্যারিকেড দিয়ে সত্যকে ঘেরা যায় না। গান্ধী পরিবার সম্পর্কে বিজেপি বলেছে, তাঁরা পালানোর জায়গা পাবেন না। সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাহুল বলেন, ‘পালানোর কথা কারা বলছে? ওরা বলছে। এসব কথা বলে আমাদের ভয় দেখানো যাবে না। নরেন্দ্র মোদির ভয়ে আমরা ভীত নই। ওরা যা করতে চায় করুক। আমরা আমাদের কাজ ঠিক করে যাব।’

সিবিআই, ইডি বা আয়কর বিভাগের মতো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদের ওপর সরকার চাপ সৃষ্টি করছে বলে বিরোধীরা বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ করছে। বস্তুত সাম্প্রতিক কালে এ সংস্থাগুলো শাসক বিজেপি ও তার শরিক কোনো দলের কারও বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে বলে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শাসক দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলার তদন্ত আগে শুরু হয়েছিল, সেগুলোও স্থগিত রয়েছে। সরকারের এ মানসিকতা ও ‘দমনমূলক নীতি’ বিরোধীদের জোটবদ্ধ করে তুলছে। আর্থিক নয়ছয় রোধ আইনে (পিএমএলএ) সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ইডিকে যে প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী করেছে, তার বিরুদ্ধে গত বুধবার ১৭টি দল এক বিবৃতি জারি করেছে। বৃহস্পতিবার সরকারের এ নীতির বিরুদ্ধে সংসদের উভয় কক্ষে সরব হন বিরোধীরা। রাজ্যসভার কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খারগে ও কে সি বেণুগোপাল বলেন, বিরোধীদের চুপ করাতে সরকার সিবিআই ও ইডির অপব্যবহার করছে। এ নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা করতে হবে। সরকার তাতে রাজি না হওয়ায় বিক্ষোভের জেরে দুই কক্ষের অধিবেশনই মুলতবি করে দেওয়া হয়।

দিন কয়েক আগে ‘পিএমএলএ’ মামলায় ইডি গ্রেপ্তার করে শিবসেনার মুখপাত্র ও সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে। বৃহস্পতিবার তাঁর স্ত্রী বর্ষাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি সমন জারি করেছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন