৩ সন্তানকে হত্যার পর দম্পতির ‘আত্মহত্যা’, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে কী বলেছিলেন বাড়ির কর্তা

উত্তর প্রদেশে মনিশ কুমার ও তাঁর পুরো পরিবারের মৃতদেহ উদ্ধারের পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এক পুলিশ কর্মকর্তাছবি: মথুরা পুলিশের এক্স ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মথুরায় একটি বাড়ি থেকে গতকাল মঙ্গলবার একই পরিবারের পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি রেকর্ড করা ভিডিও বার্তা এবং ঘরের দেয়ালে আগে থেকে একটি লিখে রাখা বার্তাও পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা হলেন মনিশ কুমার (৩৫), তাঁর স্ত্রী সীমা (বয়স প্রায় ৩২) এবং তাদের তিন সন্তান হানি (৮), প্রিয়াংশি (৫) ও প্রতীক (৩)।

মনিশের ভাইয়ের ছেলে পুলিশকে বলেছেন, ২০১৮ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল।

সকাল হওয়ার পরও বাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছেন না দেখে মনিশের প্রতিবেশীরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরে তাঁরা বাড়ির একটি দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

মৃতদেহগুলো দেখে শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, পরিবারটি হয়তো সোমবার রাতে দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পান করে আত্মহত্যা করেছে। মৃতদেহগুলোর পাশে গ্লাসে দুধ পড়ে ছিল।

যদিও পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর ভিন্ন ভিন্ন কারণ বেরিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনিশ বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর স্ত্রী ফাঁসিতে ঝুলে এবং তিন শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শোলক কুমার বলেন, ‘বাড়ির একটি কক্ষে তাঁদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।’

পুলিশ বলেছে, সকাল হয়ে যাওয়ার পরও শিশুরা বাড়ির বাইরে আসছে না দেখে প্রতিবেশীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ আসার আগে মনিশের ভাই একটি জানালা দিয়ে বাড়ির ভেতর উঁকি দিয়েছিলেন। তিনি ভেতরে কাউকে নড়াচড়া করতে না দেখে একটি দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পুরো পরিবারকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ বলেছে, মৃত্যুর আগে মনিশ একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেন, যা এই ঘটনায় রহস্য যোগ করেছে।

ভিডিওতে মনিশ বলেছেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করছি। আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। পুলিশ যেন কাউকে হেনেস্তা না করে। আমি খুবই হতাশ এবং এজন্য আমি অনুরোধ করছি, কেউ যেন কাউকে বিপদে না ফেলে।’

ভিডিওতে মনিশ আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি ১২ লাখ রুপিতে একটি জমি বিক্রি করেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, তিনি কোনোভাবে এ জন্য জমির ক্রেতাকে দায়ী করছেন না।

ঘরের ভেতরে দেয়ালে পুলিশ হাতে লেখা একটি নোট পেয়েছে। সেখানে লেখা, ‘আমরা, মনিশ এবং সীমা, স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করছি।’

একটি ডায়রিতেও আত্মহত্যার নোট পাওয়া গেছে।