আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, ‘ইঁদুর একটি ছোট্ট প্রাণী, কিন্তু পুলিশকে মোটেও ভয় পায় না। ইঁদুরের কাছ থেকে মাদক (গাঁজা) রক্ষা করা খুবই কঠিন একটি কাজ।’

মামলার আলামত আদালতে উপস্থাপনের বিষয়ে বিচারক সঞ্জয় চৌধুরীর আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ইঁদুর খেয়ে ফেলা এসব গাঁজা মাদকের তিনটি মামলার আলামত ছিল।

এই প্রতিবেদন পেয়ে বিচারক সঞ্জয় চৌধুরী পুলিশকে তিরস্কার করেছেন। সতর্ক করে বলেছেন, মথুরা জেলার থানায় জব্দ করা আরও প্রায় ৭০০ কেজি গাঁজা রয়েছে। এসব মাদক যাতে ইঁদুর খেয়ে না ফেলে, এ জন্য সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।

জব্দ করা মাদকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও ইঁদুরের মতো ছোট্ট প্রাণীকে মোকাবিলার বিষয়ে পুলিশের অভিজ্ঞতা নেই বলেও মন্তব্য করেছেন বিচারক সঞ্জয় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ইঁদুরের মতো বেপরোয়া প্রাণীর কাছ থেকে জব্দ করা পণ্য সুরক্ষার একমাত্র পথ ছিল গবেষণাগার ও ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য ওই গাঁজা নিলামে তোলা এবং বিক্রি করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা।’

এদিকে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মথুরার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এমপি সিং জানান, এসব গাঁজার পুরোটাই ইঁদুর নষ্ট করেনি। কিছু অংশ ইঁদুর খেয়ে ফেলেছে। বাকি গাঁজা ভারী বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়েছে।

তবে ইঁদুর গাঁজা খেয়ে ফেলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার একটি থানায় জব্দ করা প্রায় ৫০০ কেজি গাঁজা খেয়ে ফেলেছিল ইঁদুর।

তবে ওই সময় বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, পুলিশের এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, এত বিপুল পরিমাণ গাঁজা ইঁদুরের পক্ষে খাবার মনে করে খেয়ে ফেলা সম্ভব না। আর খেয়ে ফেললেও থানার আশপাশে বিপুল পরিমাণ ইঁদুরের বিষ্ঠা থাকার কথা। কিন্তু তেমন কোনো আলামত দেখা যায়নি।

২০১৭ সালে ভারতের বিহার রাজ্যের পুলিশ দাবি করেছিল, কয়েক হাজার লিটার অ্যালকোহল ইঁদুর খেয়ে ফেলেছে। এর এক বছর পরই বিহার রাজ্য সরকার অ্যালকোহল খাওয়া ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।