দিল্লিতে অমিত শাহর অফিসের সামনে বিক্ষোভ, আটক মহুয়া মৈত্রসহ তৃণমূলের ৮ এমপি
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে আন্দোলন ছড়িয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের আগে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাকের’ অফিস ও তার কর্ণধারের বাসভবনে তল্লাশির প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকালেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হন তৃণমূল কংগ্রেসের আটজন সংসদ সদস্য (এমপি)। দিল্লি পুলিশ তাঁদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেয়। সে সময় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ধস্তাধস্তি হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে তল্লাট।
ধরনাকারীদের অভিযোগ, তল্লাশির উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল চুরি করা, সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা হাতানো এবং ভোটের আগে সংগঠনকে দুর্বল করে দেওয়া, যাতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ আটক করে ডেরেক ওব্রায়ান, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ, বাপি রায়, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল ও শর্মিলা সরকারকে। তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সংসদ সদস্যদের জবরদস্তি পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় মহুয়া মৈত্র সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। অমিত শাহর উদ্দেশে মহুয়াকে ‘শেম শেম’ বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, অমিত শাহ ইডিকে দিয়ে নথি চুরি করাচ্ছে। ডেরেকসহ অন্য সংসদ সদস্যদের ‘অমিত শাহ শরম করো’, ‘চুরি বন্ধ করো’, ‘নথি ও ভোট চুরি করে জেতা যাবে না’, ‘বাংলায় বিজেপিকে আমরাই হারাব’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
এর পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সে সংসদ সদস্যদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি দিয়ে টুইট করে বলেন, ‘গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এজেন্সিদের হাতিয়ার করা হচ্ছে। নির্বাচনে কারচুপি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের জেলে ঢোকানো হচ্ছে। ধর্ষকদের জামিন দেওয়া হচ্ছে। এটাই বিজেপির নতুন ভারত। সারা দেশ এই চাপের কাছে মাথা নত করলেও পশ্চিমবঙ্গ প্রতিরোধ করবে। যতই অত্যাচার করো, আমরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করব ও তোমাদের হারাব।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনর বাসভবনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে ইডির কর্মকর্তারা তল্লাশি চালানো শুরু করেন। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই জায়গায় পৌঁছে যান। সঙ্গে ছিলেন কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারা। দুই জায়গা থেকেই তিনি বহু নথি নিয়ে ফিরে যান। যাওয়ার আগে গণমাধ্যমকে বলেন, আইপ্যাক সংস্থা দল ও সরকারের নির্বাচনী সহায়ক। দীর্ঘদিন ধরেই তারা চুক্তিবদ্ধ। সেই সংস্থা থেকে ভোটের আগে ইডিকে দিয়ে বিজেপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নথি হাতাতে চাইছে।
লক্ষণীয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও মমতা দুই জায়গায় বিনা বাধায় প্রবেশ করেন ও বেশ কিছু ফাইল, ল্যাপটপ, মুঠোফোন নিয়ে চলে যান। ইডিও গতকাল রাত পর্যন্ত কোনো ‘সিজার লিস্ট’ তৈরি করতে পারেনি। কী করে তা সম্ভবপর হয়, সেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী সদলবল কী করে এই কাজ করতে পারেন, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।
গতকালই মমতা ঘোষণা দেন, এর বিরুদ্ধে রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেই তৃণমূল কংগ্রেস বিক্ষোভ দেখাবে। আজ সাতসকালে দিল্লিতে অমিত শাহর অফিসের সামনে তৃণমূলের বিক্ষোভ তারই অংশ। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিক্ষোভ মিছিল বের করবেন কলকাতায়।