শুক্রবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল এ ঘোষণা দেন।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নয়াদিল্লিতে ভয়াবহ বায়ুদূষণ বিরাজ করছে।

এদিকে দিল্লির পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী গোপাল রাই বলেছেন, দিল্লি ও রাজধানীর বায়ুদূষণ দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছার কারণে দিল্লি সরকারের অর্ধেক কর্মীকে ঘরে থেকে দাপ্তরিক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অর্ধেক কর্মীকে বাড়িতে অফিস করার একটি নির্দেশনা জারি করা হবে।

দিল্লি সরকার জানিয়েছে, শনিবার থেকে সেখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আপাতত খেলাধুলা থেকে বিরত থাকবে। এ ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জরুরি পণ্য পরিবহন ছাড়া রাজধানী দিল্লিতে ডিজেলচালিত ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

বায়ুদূষণের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকারী যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) কর্তৃক প্রকাশিত সূচকে দেখা যায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় নয়াদিল্লির বাতাসে ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫ ছিল ৩৫৩ পয়েন্ট। এর অর্থ হচ্ছে, তখন নয়াদিল্লির বায়ুমান ছিল ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে।

সিস্টেম অব এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড ওয়েদার ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ জানায়, দিল্লিতে বায়ুতে থাকা পিএম ২.৫ -এর ৩৪ শতাংশই নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়ার কারণে হয়েছে।

একিউআই অনুযায়ী, পিএম ২.৫ বস্তুকণা ০-৫০ পয়েন্ট পর্যন্ত থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়, ১০০ পয়েন্ট পর্যন্ত থাকলে ‘সন্তোষজনক’, ১৫০ পর্যন্ত ‘কিছু মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১-২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ পর্যন্ত ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ও ৩০১ বা এর বেশি হলে বায়ুদূষণকে ‘বিপর্যয়কর’ বলা হয়।

প্রতি শীতেই নয়াদিল্লিতে বায়ুমানের অবস্থার চরম আকার ধারণ করে। এতে শহরটির দুই কোটি বাসিন্দা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যায় ভোগে। মূলত ঠান্ডার পাশাপাশি নির্মাণকাজের ভারী ধুলা, যানবাহনের কার্বন নিঃসরণ ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর ফসলের নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়ায় দিল্লির বায়ুমান বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।