পশ্চিমবঙ্গের বাদ পড়া মানুষকে কি ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল

ভারতের সুপ্রিম কোর্টছবি: এএনআই

বাংলাদেশের ছিটমহলের বাসিন্দাদের ২০১৫ সালে ভারতের নাগরিক করা হয়েছিল। নাগরিকত্ব পাওয়া এমন একজন হলেন ষাটোর্ধ্ব কমল রায়। তিনি ও তাঁর পরিবার ভারতের অংশেই ছিলেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিক না হলেও অতীতে ভোট দিয়েছেন। তবে এবার কমল ও তাঁর স্ত্রী রূপা রায় (৪৮), পুত্রবধূ অনামিকা রায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কেবল তাঁর ছেলের নাম রয়েছে ভোটার তালিকায়।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯২ লাখ মানুষকে। তাঁদের অনেকে আবার রাজ্য ছেড়ে গেছেন বা মারা গেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতভাবে তালিকায় নাম না ওঠা ব্যক্তিদের যে সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে, তা প্রায় ২৭ লাখ। এই ২৭ লাখের মধ্যে রয়েছেন কমল রায় ও তাঁর পরিবার।

এই প্রতিবেদককে প্রায় রোজই ফোন করছেন কমল রায়। তাঁর আকুতি, ‘আমাদের কী হবে বলুন তো? আমরা কি বাদ পড়ে গেলাম? আমরা কী করব? কার কাছে যাব?’ কমলের এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।

কমল রায় ছোটখাটো আসবাব ব্যবসায়ী, থাকেন কলকাতা থেকে বহু দূরে কোচবিহারে। ওই গ্রামের নিম্নবিত্তরাই যে শুধু বাদ পড়েছেন তা নয়, পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বিখ্যাত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক নন্দিতা রায়ও বাদ পড়েছেন। তাঁর বাবা ও ঠাকুরদা ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ছিলেন।

নন্দিতা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় তাঁর নাম ছিল। কিন্তু এসআইআরের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় তিনি দেখেন, তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ বিভাগে আছে। পরে তাঁর নামটি তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। প্রতিবাদে গত সপ্তাহে কলকাতার পার্ক সার্কাসে আয়োজিত এক গণসমাবেশে অংশ নিয়ে নন্দিতা বলেন, ‘আমি ছাত্রছাত্রীদের সামনে বলতেই বেশি অভ্যস্ত। কিন্তু বাধ্য হয়েই আমাকে এখানে আসতে হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী সমাবেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৯ এপ্রিল ২০২৬, হলদিয়া
ছবি: এএনআই

নাম বাদ পড়া ব্যক্তিরা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আবেদন জানাতে পারবেন বলে সরকার জানিয়েছে। তবে নন্দিতা আরও অনেকটা পথ হাঁটতে প্রস্তুত। এ ঘটনার শেষ দেখার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

নন্দিতা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি কেবল একটি ভোটের বিষয় নয়। এটি সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের প্রশ্ন। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি, আমি সাংবাদিকদের কাছে বা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছি। আপনারা ভাবুন, নাম বাদ পড়া সেই ৯২ লাখ মানুষের কথা। তাঁদের অধিকাংশ হয়তো এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানেন না।’

যাঁরা কিছুই জানেন না, তাঁদের মধ্যেই পড়েন কমল রায়। তিনি প্রায়ই প্রতিদিনই এই প্রতিবেদককে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘আমাদের কী হবে?’

বাদ পড়া মানুষের কী হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। বাতিল হওয়া ২৭ লাখ ভোটার ভোট দিতে পারবেন কি না, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা এখন খতিয়ে দেখছেন ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল। তাদের অস্থায়ী অফিস কলকাতার পশ্চিমে জোকার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পরিচালনায় ১৯টি ট্রাইব্যুনাল সেখানে কাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশনায় জানিয়েছেন, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবেন, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দেবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে যে আবেদনকারীরা ছাড়পত্র পাবেন না, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।

প্রশ্ন হলো, ট্রাইব্যুনাল ছাড়পত্র দিতে কি আদৌ তৈরি? উত্তর হলো ‘না’। কেন? তার ব্যাখ্যা আজ সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছেন তৃণমূলের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। তিনি লিখেছেন, ‘সম্মানের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টকে জানাতে চাই, জোকার যে ভবনে এসআইআরের শুনানির জন্য নির্ধারিত ১৯টি অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, সেখানে বর্তমানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ। সিএপিএফ (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স) সেখানে পাহারা দিচ্ছে। কাউকে সেখানে তলব করা হয়নি বা কোনো শুনানিও হয়নি। ২৭ লাখ মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ আর মাত্র ৩ দিন পরেই ভোট।’

দ্বিতীয়ত, ট্রাইব্যুনাল কী করতে পারে আর কী করতে পারে না—সে–সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়ার বা নির্দেশিকা জারি করার কথা ছিল ট্রাইব্যুনালের। সেটা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ জানেন না, ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করার পর তাঁরা কী করবেন বা কার কাছে যাবেন।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৯ এপ্রিল ২০২৬, কলকাতা
ছবি: এএনআই

এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা (সিইও) মনোজ আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘মামলার নিষ্পত্তি বা অনুমোদন ট্রাইব্যুনাল করেছেন। সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। ড্যাশবোর্ড প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত আমি বলতে পারব না, কতগুলো মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব ড্যাশবোর্ডটি চালুর সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’

এ অবস্থায় ২৭ লাখ বাদ পড়া ভোটারের কয়জন এবার ভোট দিতে পারবেন, তা বলা মুশকিল।

পর্যবেক্ষকদের অভিমত

এসআইআর আরও আগে শুরু করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সাবির আহমেদ। সাবির একজন গবেষক এবং অমর্ত্য সেনের প্রতিটি ইনস্টিটিউটের জাতীয় গবেষণা সমন্বয়ক। এসআইআর নিয়ে তিনি ও কলকাতার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সবর ইনস্টিটিউট’ বিস্তৃত গবেষণা করেছে। সাবির প্রথম আলোকে বলেন, এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বরে।

এত বড় প্রক্রিয়ার জন্য সময়টা অত্যন্ত কম বলে মন্তব্য করে সাবির প্রথম আলোকে বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন ১৯৫২ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে সারা বছর ধরেই চলতে থাকে, এটা নতুন কিছু নয়।

সাবির বলেন, তবে গত বছরের বিহার নির্বাচন থেকে এটি বিশেষ মাত্রা পায়। গোটা রাজ্যজুড়ে পশ্চিমবঙ্গে নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়। এ রকম কোনো আইনে বলা নেই, রাজ্যজুড়ে এটা হতে হবে। আইনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা যাবে।

এই গবেষক বলেন, দেশজুড়ে সবার জন্য প্রযোজ্য এসআইআর-বিষয়ক একটি নিয়মের প্রয়োজন ছিল। সেটা নেই। হয়তো সেটা হয়েছে, কিন্তু প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন ছিল, যেটা করা হয়নি। অনেক নতুন নিয়ম আমদানি করা হয়েছে, যার কোনো বিধি আছে বলে তাঁর জানা নেই।

সাবির বলেন, যেমন ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ (যুক্তিসংগত অসংগতি), ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ (বিচারাধীন)—এসব নির্বাচন কমিশন করেছে বটে। কিন্তু এর কোনো আইনসংগত ব্যাখ্যা নেই। এখন সুপ্রিম কোর্টও বলছেন সে কথা। বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ একই ভাষাতেই কথা বলেন। এখানে নানা রকমের ভাষা, ধর্ম ইত্যাদি। তেমন একটা দেশে এ কাজ তিন মাসের মধ্যে করতে গিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলতা দেখা দিয়েছে।

সাবির বলছিলেন, যেসব নির্বাচন কর্মকর্তারা এসআইআর নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই বাংলাভাষী নন। ফলে বাংলা নামের বানান সম্পর্কে তাঁদের ধারণা নেই।

পশ্চিমবঙ্গের এই গবেষক বলেন, ‘এর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। আরও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আবদুর জব্বার হয়ে গেছেন আ. জব্বার। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মহম্মদ শব্দটি ১৫ রকমভাবে লেখা যায়। এআই কী করেছে, বলা মুশকিল। সব তালগোল পাকিয়ে গেছে। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এ রকম ঘটনা অতীতে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।’

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ। ১০ এপ্রিল ২০২৬, কলকাতা
ছবি: এএনআই

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি কোথায়

এ তালিকা যখন ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি রয়েছেন বলে কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা যে দাবি করতেন, তার কোনো ভিত্তিই নেই।

সাবির আহমেদের কথায়, ‘একটা রাজনৈতিক বয়ান ছিল, পশ্চিমবঙ্গ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিতে ভরে গেছে। প্রথম তালিকা ডিসেম্বরে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই এটা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। যেখানে মুসলিম বেশি, সেখানে ‘ম্যাপড পপুলেশন’ পাওয়া গেছে। ‘ম্যাপড পপুলেশন’ মানে ২০০২-এর ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের মিলিয়ে প্রমাণ করা যে তাঁরা আদতে ভারতের নাগরিক।

সাবির আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে নির্বাচন কমিশন একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে চলছে। তখন প্রশ্ন উঠল, তাহলে মুসলিমদের কীভাবে জব্দ করা যাবে? তখন এই ‘যুক্তিসংগত অসংগতি’র গল্পটা এল, এটা ওদের নিয়ম-নীতিতে নেই।’

অমর্ত্য সেনের প্রতিটি ইনস্টিটিউটের জাতীয় গবেষণা সমন্বয়ক বলেন, ভারতে পাসপোর্ট পাওয়ার সময় যেসব নথিপত্র দিতে হয় এবং সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হয়, তা খুবই কঠিন। সেই ধরনের নথিপত্র দিয়ে যাঁরা পাসপোর্ট পেয়েছেন, তাঁরাও ভোটার তালিকার বাইরে চলে গিয়েছেন।

নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে

পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এই প্রতিবেদককে বলেন, তুলনামূলকভাবে যাঁরা একটু দরিদ্র, মূলত ধর্মীয় সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মানুষ—এসআইআরে তাঁরা বাদ পড়েছেন বেশি। উঁচু বর্ণ বা আর্থিকভাবে এগিয়ে থাকা মানুষের নাম বাদ যাওয়ার তালিকায় স্বল্পই।

তাহলে কি তৃণমূলের সমস্যা বাড়বে? কারণ, তাদের ভোটারদের বড় অংশই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী বা সংখ্যালঘু।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বিশ্লেষক সুমন ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, ‘যদি আমরা বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখি, তাহলে দেখা যাবে, ৪২টি আসনে তৃণমূল ১৫ হাজার বা তার কম ব্যবধানে জিতেছিল। বিজেপির ক্ষেত্রে এ রকম কম ব্যবধানে জেতা আসনের সংখ্যা ১৯। এসআইআরে গড়ে একেকটি আসনে ২০ হাজার করে ভোটারের নাম বাদ পড়লে বিজেপির ‘অ্যাডভান্টেজ’ থাকতে পারে ২০টি আসনে।

সুমন ভট্টাচার্য বলছিলেন, মোটামুটি এটা ধরেই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট সমীকরণ সাজিয়েছে বিজেপি। অমিত শাহর ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট’ ভূপেন্দ্র যাদব যে সবাইকে বলছেন, বিজেপি ১০০ আসন পেরিয়ে যেতে পারে—সেটা মোটামুটি এই সমীকরণে দাঁড়িয়ে বলছেন।

তবে রাজনীতিতে সব সময় দুই প্লাস দুই—চার হয় না বলে মন্তব্য করে সুমন প্রথম আলোকে বলেন, এসআইআরে গণহারে নাম বাদ গেছে। মুর্শিদাবাদ বা মালদায় মুসলিমদের নাম তো বাদ গেছে, রানাঘাট বা বনগাঁ মহকুমায় মতুয়াদের নামও বাদ গেছে। তাতে বাঙালির ‘মনে একটা ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে’।

এই রাজনীতিবিশ্লেষক বলেন, ‘সেটা বিজেপির জন্য বুমেরাং হতে পারে এবং তৃণমূল বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। এটা সত্যিই আশ্চর্যের, তৃণমূল ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও ভোটটা কিন্তু প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার বা তৃণমূলের পারফরম্যান্সের ওপর পুরোপুরি হচ্ছে না। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ ভালোভাবে বিধানসভা ভোটকে এসআইআর এবং তাঁর বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিরোধের লড়াইয়ে পরিবর্তিত করে দিতে পেরেছেন।’

তবে তৃণমূলের নিজস্ব কিছু সমস্যা আছে বলেও মনে করেন সুমন। এগুলোকে ‘ভোট ম্যানেজমেন্টে’র সমস্যা বলে বর্ণনা করে সুমন বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে সাধারণভাবে দুটি মূল ভোটব্যাংক—মুসলমান ও মহিলা। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এই দুটি গোষ্ঠী কম গুরুত্ব পেয়েছে।

সুমন ভট্টাচার্য বলেন, মুসলিমরা ৯৪টি বিধানসভা আসনে নির্ণায়ক শক্তি। সেখানে সংখ্যালঘু প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬। আর তৃণমূলনেত্রী নিজে বারবার বলেন, তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় এক–তৃতীয়াংশ আসন, অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ নারীদের জন্য ছাড়েন। সেখানে বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূলের নারী প্রার্থী ৫২ জন, অর্থাৎ ২০ শতাংশের কম। এরপরও তেমন চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল পড়ছে না। কারণ, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি যেমন মুসলিম প্রার্থী দেয় না, তেমনই গেরুয়া শিবিরের নারী প্রার্থীর সংখ্যা ১০ শতাংশও পেরোয়নি।

শেষ পর্যন্ত ২৭ লাখ ভোটারের সমস্যা মিটছে না, তাঁদের সময় ফুরিয়ে আসছে। তাঁরা ভোট যে দিতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা আর নেই। চরম বিভ্রান্ত ও হতাশাগ্রস্ত কমল রায়কে তাই কোনো ইতিবাচক উত্তরই আর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।