‘তেলাপোকাদের’ পাশে থাকতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে জোর দাবি

কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলছেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। নয়াদিল্লি, ৮ জুন ২০২৬ছবি: এএনআই
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির আন্দোলন উপেক্ষা না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি বলে মনে করেছেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের কোনো কোনো শরিক। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই গত সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঠিক হয়েছে, এবার থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক বসবে। পরবর্তী বৈঠক আগস্ট মাসে, কংগ্রেসশাসিত তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে।

গত সোমবার সংসদ ভবনের কাছে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক বসেছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের। নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পর এ বৈঠকের আয়োজন করতে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের জন্য কনস্টিটিউশন ক্লাব ভাড়া করেছিল তাঁর দল।

বৈঠকে ‘তেলাপোকাদের’ দল সিজেপির ব্যানারে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের প্রসঙ্গ তোলেন ফরোয়ার্ড ব্লকের জাতীয় সম্পাদক জি দেবরাজন। তিনি বলেন, সংগত কারণেই আজ তরুণ প্রজন্ম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। একদিকে বেকারত্ব, অন্যদিকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সিবিএসসি পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছে। তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের উচিত এই তরুণদের পাশে দাঁড়ানো। তাঁদের দাবিকে সমর্থন জানানো।

দেবরাজনের সুপারিশকে সমর্থন করেন জম্মু-কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহও। তিনি বলেন, জেন-জিদের ক্ষোভে জোটের শামিল হওয়া উচিত। জোটের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলা দরকার। ওমর বলেন, যুবসমাজের জানা দরকার, বিরোধীরা তাঁদের পাশে আছেন। সেই ইঙ্গিত দেওয়া জরুরি।

দেবরাজন ও ওমর আবদুল্লাহর প্রস্তাব মেনে গতকাল সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোট কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছে। এত দিন কংগ্রেস বিচ্ছিন্নভাবে ওই দাবি জানিয়ে আসছিল।

‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অনেক ধরনের মত রয়েছে। বিজেপি মনে করছে, ওই আন্দোলনে পাকিস্তান ও মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসের মদদ রয়েছে। কংগ্রেসের একাংশের ধারণা, তাদের কারও কারও পেছনে মদদ রয়েছে আম আদমি পার্টির (আপ), যেহেতু সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা একসময় আপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তবে দেবরাজন ও ওমর আবদুল্লাহদের যুক্তি, যুবসমাজ যখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে, তখন দাবিকে সমর্থন না জানানো বোকামি হবে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সেই যুক্তি মেনে নেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনি যখন ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ প্রমাণ করছিলেন, তখন তিনি ছিলেন একা। তাঁর সমর্থনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকেরা এগিয়ে আসেনি। এখন যদিও সবাই বুঝতে পারছে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে ভোট চুরি করে বিরোধীদের হারাচ্ছে। কীভাবে এসআইআরকে হাতিয়ার করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমাবেশ। নয়াদিল্লি, ৬ জুন ২০২৬
ছবি: এএনআই

সোমবার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসআইআর ও ভোট চুরি প্রতিকারে ‘ইন্ডিয়া’ জোট দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবে। মমতা চেয়েছিলেন, জোটের প্রতিনিধিরা কমিশনে গিয়ে দরবার করুক। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও আইনজীবী কপিল সিব্বাল চিঠি দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

সোমবারের বৈঠকে আরও ঠিক হয়েছে, সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে জোটের ফ্লোর কো–অর্ডিনেশন বৃদ্ধি করা হবে। অধিবেশন চলাকালে নিয়মিত বৈঠক বসবে সংসদ ভবনে মল্লিকার্জুন খাড়গের অফিসে।

কেন্দ্রীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটবদ্ধ হলেও রাজ্যস্তরে শরিকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব যথেষ্ট। বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তামিলনাড়ুতে ডিএমকের হাত ছেড়ে টিভিকের দিকে কংগ্রেস ঝুঁকে পড়ায় দুই দলে চিড় ধরেছে। খাড়গে বলেন, কেন ও কোন পরিস্থিতিতে তেমন করতে হয়েছিল, সেটা বোঝা দরকার। ভুল–বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে আলোচনার মধ্য দিয়েই মেটানো উচিত।

অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবের মতো শরিকেরা বলেন, কংগ্রেস বড় দল। কেন্দ্রীয় স্তরের মতো রাজ্যস্তরেও জোটের ঐক্য ধরে রাখতে স্থানীয় নেতাদের আরও বিবেচক হওয়া দরকার।

ওই বৈঠকে শরিকেরা প্রত্যেকেই মনে করেন, দেশ এখন এক চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। সংকট নিরসনে সরকারের উচিত সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা। সেই দাবি ‘ইন্ডিয়া’ জোট জানিয়েছে।