ভারত জোড়ো যাত্রা এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রে। মধ্যপ্রদেশে প্রবেশ করবে ২০ নভেম্বর। ২১ ও ২২ নভেম্বর যাত্রার বিরতি। ওই সময়ে রাহুল গুজরাটে যাবেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে। সংবাদমাধ্যমের খবর, ২৪ নভেম্বর রাহুলসহ সব যাত্রীর রাত কাটানোর কথা ইন্দোরের খালসা স্টেডিয়ামে। তার আগে এই হুমকি দেওয়া চিঠি। চিঠির পূর্ণ বয়ান অবশ্য জানা যায়নি। তবে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, অনামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক মামলা করা হয়েছে। কেউ ধরা পড়লে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাহুলের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া চিঠি পাওয়া গেল হিন্দুত্ববাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকর সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যের পরদিন। মহারাষ্ট্রে যাত্রাচলাকালে গত বৃহস্পতিবার রাহুল বলেন, সাভারকর ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে মুচলেকা দিয়ে চিঠি লিখে বলেছিলেন, তিনি ইংরেজদের পরম অনুগত থাকবেন। রাহুলের দাবি, সাভারকর শুধু ব্রিটিশদের অনুকম্পাই চাননি, অগণিত স্বাধীনতাসংগ্রামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।

রাহুল তাঁর ওই মন্তব্যের সমর্থনে সংবাদ সম্মেলনে সাভারকরের লেখা এক চিঠির প্রতিলিপিও দেখান। তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস–শিবসেনা–এনসিপি জোট রয়েছে। শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে ওই মন্তব্যের পিঠে জানান, রাহুলের সঙ্গে তাঁরা একমত নন। তিনি বলেন, সাভারকরের মতো মানুষকে নিয়ে বিতর্কে না জড়ানোই শ্রেয়। মহারাষ্ট্রের জনগণ তা গ্রহণ করবে না। যদিও তারপরেও রাহুল বলেন, তিনি তাঁর মন্তব্য থেকে সরছেন না। আদর্শগত কারণে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করবেন না।

লক্ষণীয়, সাভারকরকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পরেই এমন হুমকি দেওয়া চিঠি পাওয়া গেল। রাহুলের মন্তব্যের সঙ্গে এর কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, পুলিশ তা তদন্ত করছে। কংগ্রেসের এক কেন্দ্রীয় পদাধিকারী এই বিষয়ে আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারত জোড়ো যাত্রা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কতটা চক্ষুশূল, এই হুমকি চিঠি তার প্রমাণ। এ–ও প্রমাণিত, আজকের দিনে ভারত জোড়ো যাত্রা কতটা প্রাসঙ্গিক।’ তিনি বলেন, ‘হিংসা, দ্বেষ, হানাহানি, ধর্মান্ধতা, বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করাই এই যাত্রার লক্ষ্য। বহুত্ববাদী ভারতকে যারা একদর্শী করে তুলতে চায়, এই যাত্রায় তারা অসন্তুষ্ট। তাই এমন হুমকি দেওয়া চিঠি।’

আজ সকালে মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলার শেগাঁওয়ে যাত্রা শুরু হলে তাতে যোগ দেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র (নাতির ছেলে) লেখক তুষার গান্ধী। রাহুল ও তুষার দুজনে হাত ধরাধরি করে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটেন। কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের ছবি দিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দুই প্রপৌত্রের যাত্রা শাসককে এই বার্তাই দিচ্ছে যে তারা গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছে। কিন্তু তাঁরা গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেবেন না।’

ভারত জোড়ো যাত্রায় প্রতিদিন বহু অরাজনৈতিক মানুষ যোগ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার যোগ দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেনের নাতনি অভিনেত্রী রিয়া সেন। ওই দিনই যাত্রায় যোগ দেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধা লীলাবাঈ চিতালে, যিনি গান্ধীজির ডাকে ১৯৪২ সালে ভারত ছোড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ সেই ছবি দিয়ে টুইটারে লেখেন, ‘লীলাবাঈ চান, এই যাত্রা সংবিধান রক্ষা করুক।’