সরকার গঠন নিয়ে সংকটে থালাপতি বিজয়, দলের সব বিধায়ককে রেখেছেন অবকাশযাপনকেন্দ্রে

তামিলনাড়ুতে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয় ২০২৪ সালে তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) নামের দল প্রতিষ্ঠা করেনছবি: এএনআই ফাইল ছবি

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন–পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তারকা অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। ফলে অভাবনীয় জয় পেয়েও রাজ্যের ক্ষমতায় বসা নিয়ে বিজয়ের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে।

তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪টি। এর মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। তবে বিজয়ের টিভিকে পেয়েছে ১০৮ আসন। অর্থাৎ ১০ আসনে পিছিয়ে আছে তারা। দলটির ধারণা ছিল, বিধানসভায় কংগ্রেসের পাওয়া পাঁচটি আসন এবং রাজ্যের ছোট দলগুলোর সাহায্যে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা।

তবে গতকাল বুধবার রাজ্যপাল আর ভি আরলেকারের সঙ্গে টিভিকের নেতারা দেখা করতে গেলে বিপত্তি বাধে। সূত্র বলছে, রাজ্যপাল বিজয়ের প্রস্তাব খারিজ করে দেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবার দেখা করতে গেলে রাজ্যপাল জানান, বিজয়কে সরকার গঠন করতে হলে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করে একটি চিঠি তাঁকে দেখাতে হবে।

রাজ্যপালের এমন অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিভিকে। সংখ্যালঘু সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপালকে রাজি করাতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে দলটি। এ পর্যন্ত কংগ্রেস ছাড়া বাম দলগুলোর মধ্যে সিপিআই, সিপিআইএম ও বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচির সমর্থন পেয়েছে তারা। তিনটি দলই ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ।

বিজয়কে এই তিন দলের সমর্থন দেওয়া নিয়ে আপত্তি নেই ডিএমকের প্রধান এম কে স্ট্যালিনের। আর বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি প্রধান থিরুমাভালাভান বলছেন, তাঁরা বিজয়ের সঙ্গে সরকারে যোগ দেবেন কি না, সে সিদ্ধান্তের জন্য আরও এক–দুই দিন সময় নেবেন। বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

সরকার গঠনে এখন বিজয়ের সামনে আরেকটি পথ আছে। সেটি হলো এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট গঠন। এ দলটি ৬২ বছর তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় ছিল। সম্প্রতি খবর বেরোয়, এআইএডিএমকের ১২ জনের বেশি বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিতে প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু দলটির দুজন নেতা বলেন, এমন জোটের কথা সত্য নয় এবং কোনো চুক্তি হয়নি।

আরও পড়ুন

এদিকে এসব রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যে মধ্যে বিজয়ের দলের ১০৭ জন নতুন বিধায়ককে রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের মন্দিরনগরী মামাল্লাপুরামের একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো তারা যেন অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারেন।

তবে দলটির সামনে সবচেয়ে খারাপ যে পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, তা হলো যদি তাঁরা ১১৮ বিধায়কের সমর্থন দেখাতে না পারে, তাহলে রাজ্যপাল নতুন বিধানসভা স্থগিত করে কেন্দ্রের কাছে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন।

আরও পড়ুন