উপনির্বাচনে জোড়া ফুল প্রতীক পাচ্ছে না তৃণমূলের কোনো পক্ষ

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক জোড়া ফুল।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিবদমান দুই পক্ষের কেউই আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে দলের ঐতিহ্যবাহী জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ভারতের নির্বাচন কমিশন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। একই সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও উপনির্বাচনে ব্যবহার করতে পারবে না কোনো পক্ষ। দুই পক্ষকে বিকল্প প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে গতকাল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের শুনানি হয়। উভয় পক্ষের পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে কমিশন জানায়, জোড়া ফুল প্রতীক আপাতত স্থগিত করে রাখা হবে। দলের নাম, প্রতীক, তহবিল ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর।

এ উপনির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলের দুই পক্ষই জোড়া ফুল প্রতীক দাবি করে মনোনয়নপত্র জমা দেয় এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীক বরাদ্দের আবেদন জানায়। ১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে দিল্লিতে শুনানির জন্য ডেকেছিল কমিশন। সেদিন শুনানি হলেও প্রতীক নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে উভয় পক্ষের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়, যা ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছিল।

গতকাল সেই নথিপত্র ও বক্তব্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় শুনানি হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন অরূপ রায়, আমন ঝা, আখতারুজ্জামান ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ ও একজন আইনজীবী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

মমতার হাতে গড়া প্রতীক

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে তিনি জোড়া ফুল বেছে নেন। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের পর থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে এই প্রতীক ব্যবহার করে আসছে তৃণমূল।

তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। নির্বাচনে বিজেপির বড় জয় ও তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের মধ্যে নেতৃত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে পৃথক পক্ষ গঠন করেন।

তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই বিদ্রোহী বিধায়কেরা পাল্টা তৃণমূল গঠন করেন। পরে বিধানসভায় তাঁদের বিরোধী দলের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

এখন দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই বিকল্প প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নিতে হবে।