পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ট্রাইব্যুনালের আপিল নিষ্পত্তিতে লাগবে ১৪৫ বছর, বললেন বিচারপতি

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি এসআইআর ক্যাম্পে আপিল আবেদনকারীদের ভিড়ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ভোটাধিকার বিষয়ে নিষ্পত্তি করতে গঠিত ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের একটির দায়িত্বে রয়েছেন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি এখন এ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন।

ইন্দ্রজিৎ বলেছেন, কর্মরত অবস্থায় তিনি দিনে গড়ে ১০টি আপিলের শুনানি নিতে পারেন। এই গতিতে এই শুনানি চললে এবং বছরের ৩৬৫ দিন কাজ করলে তাঁর এই প্রক্রিয়ায় থাকা ৫ লাখ আপিলের নিষ্পত্তি করতে ১৪৫ বছর সময় লাগবে।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় এ পর্যন্ত ৪২৫টি আপিলের নিষ্পত্তি করেছেন। এখনো তাঁর এখতিয়ারে বিচারাধীন আপিল মামলা রয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার। যদিও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে ৩৮ লাখের বেশি আপিল হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ১ লাখ ২ হাজার আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে।

এই ১৯টি ট্রাইব্যুনালের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তাঁদের মধ্যে বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় ট্রাইব্যুনালের চাপ নিতে না পেরে পদত্যাগের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁকে সল্টলেকের বাসভবন থেকে ভাঙাচোরা ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পেরিয়ে দক্ষিণ কলকাতার জোকার ট্রাইব্যুনাল দপ্তরের শুনানি কেন্দ্রে যেতে হয়।

বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি যেসব আপিলের নিষ্পত্তি করেছেন, তার মধ্যে ৮২ দশমিক ৩৫ শতাংশ আবেদনকারী প্রকৃত ভোটার ছিলেন। তিনি বলেছেন, তিনি এ পর্যন্ত ৪২৫টি আপিলের নিষ্পত্তি করেছেন। এখনো বাকি রয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার আপিল আবেদন।

এই বিচারপতি এ কথাও বলেছেন, আপিল নিষ্পত্তির পর ৩৫০ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৭৫ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় যৌক্তিক অসংগতির কারণে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা রেকর্ড করা গেছে। এ জেলার আপিল মামলা নিষ্পত্তির জন্য নিয়োগ করা হয়েছে দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কারণ, এ জেলায় রয়েছে ২২টি বিধানসভা আসন।

এর মধ্যে ১১টি বিধানসভা আসনের আপিল নিষ্পত্তির জন্য রয়েছেন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাকি ১১টি বিধানসভা আসনের আপিল নিষ্পত্তির জন্য রয়েছেন আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।