বাস কন্ডাক্টর থেকে আদিবাসী শিল্পী—ভারতে আড়ালের নায়কদের স্বীকৃতি পদ্মশ্রীতে

ভারতের জাতীয় পতাকা

ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আজ রোববার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রীপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছে। সমাজের নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবার ৪৫ জন এই সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন, যাঁদের ‘আনসাং হিরো’ বা আড়ালের নায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বছর পদ্মশ্রীর জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে একসময় বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন, এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছেন। আছেন এক শিশু চিকিৎসক, যিনি এশিয়ার প্রথম মানব দুধের ব্যাংক স্থাপন করে নবজাতকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছেন। আরও আছেন ৯০ বছর বয়সী এক শিল্পী, যিনি বিলুপ্তপ্রায় এক আদিবাসী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ধরে রেখেছেন লোকসংস্কৃতির উত্তরাধিকার।

ভারতের সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) জানিয়েছে, কর্ণাটক রাজ্যের মহিশূর জেলার হারালাহাল্লি গ্রামের বাসিন্দা আঙ্কে গৌড়া একসময় বাস কন্ডাক্টরের কাজ করতেন। তাঁর বর্তমান বয়স ৭৫ বছর। এখন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত (ফ্রি-অ্যাকসেস) গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর গড়ে তোলা ‘পুস্তক মানে’ গ্রন্থাগারে ২০টি ভাষায় ২০ লাখের বেশি বই ও দুর্লভ পাণ্ডুলিপি রয়েছে। জ্ঞানকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার এ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি পদ্মশ্রী পাচ্ছেন।

তালিকায় থাকা মুম্বাইয়ের শিশু চিকিৎসক আরমিদা ফার্নান্দেস এশিয়ার প্রথম মানব দুধের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য নবজাতকের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

মহারাষ্ট্রের ৯০ বছর বয়সী আদিবাসী তার্পা বাদক ভিকলিয়া লাদকিয়া ধিন্ডাকে পদ্মশ্রী দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তিনি লাউ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিরল এ বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন।

পদ্মশ্রী ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। এ ছাড়া রয়েছে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ এবং সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন।