জেনেরিক ওষুধে ট্রাম্পের ২০০ শতাংশ শুল্ক, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে কোন দেশের

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পতাকাফাইল ছবি: রয়টার্স

আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের ওপর ২০২৮ সালের আগস্ট মাস থেকে উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো এ ধরনের ওষুধের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ফিরিয়ে আনা।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের ওপর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ভারত।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ধাপে ধাপে শুল্ক আরোপের এই পরিকল্পনা চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে, তবে প্রথম দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব জেনেরিক ওষুধের ওপর শূন্য শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।

তৃতীয় বছরে শুল্কের হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এর পর থেকে তা ২০০ শতাংশ হবে বলে ওই পোস্টে জানান ট্রাম্প।

গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭০ কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানি করেছে ভারত। এটি ভারতের মোট বৈশ্বিক ওষুধ রপ্তানির ৩৮ শতাংশ। ভারত সারা বিশ্বে ২ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানি করে।

ট্রাম্প যা বলেছেন

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব জেনেরিক ওষুধের ওপর আগামী দুই বছর শূন্য শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য শুল্কের হার ১০০ শতাংশ করা হবে। আর তার পর থেকে তা ২০০ শতাংশ হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও উৎপাদন-সরঞ্জাম স্থাপন করবে না, তাদের জন্য এই শুল্ক একধরনের জরিমানা হিসেবে কাজ করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ‘পেটেন্ট, ব্র্যান্ড বা উদ্ভাবনী ওষুধসংক্রান্ত নীতি, যা এত দিন ধরে সফলভাবে কাজ করেছে, তা অপরিবর্তিত থাকবে।’

ভারতকে প্রায়ই ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ বলা হয়। কারণ, দেশটি সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ করে।

ভারতের জেনেরিক ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ রক্তচাপ, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, সংক্রামক রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই (পরিমাণের হিসাবে) আসে ভারত থেকে।

গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭০ কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানি করেছে ভারত। এটি ভারতের মোট বৈশ্বিক ওষুধ রপ্তানির ৩৮ শতাংশ। ভারত সারা বিশ্বে ২ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানি করে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকি ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারিতে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, জেনেরিক ওষুধ এবং এর উপাদানগুলোর ক্ষেত্রে ভারত আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সুবিধা পাবে।

আরও পড়ুন

ভারতের জেনেরিক ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ রক্তচাপ, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, সংক্রামক রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ফাইন্যান্সিয়াল পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে সব ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের প্রায় ৬৫ শতাংশই তৈরি করেছিল ভারতভিত্তিক মাত্র দুটি কোম্পানি—গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং লুপিন লিমিটেড।

আরও পড়ুন