জম্মু–কাশ্মীর মামলা শোনার জন্য নতুনভাবে সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করতে হবে। চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা গ্রীষ্মকালীন অবকাশের পর এই মামলার শুনানি শুরু করতে রাজি হয়েছিলেন। সে জন্য পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চও গঠিত হয়েছিল। কিন্তু শুনানি শুরু হয়নি। প্রধান বিচারপতি পদ থেকে এন ভি রমনা অবসর নেন। অবসর নিয়েছেন বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডিও।

 জম্মু–কাশ্মীর দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট। ওই দিনেই খারিজ হয়ে যায় ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ, যেখানে রাজ্যটিকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং তার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। ২০২০ সালের ২ মার্চ শেষবার সংক্ষিপ্ত শুনানি হয়েছিল। সেই নিরিখে দীর্ঘ আড়াই বছর পর ওই মামলার শুনানি হতে চলেছে।

রঞ্জন গগৈ প্রধান বিচারপতি থাকাকালে মামলার শুনানি সেভাবে হয়নি। নভেম্বর মাসে অবসর গ্রহণের আগে তিনি পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছিলেন। সেই বছরের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শরদ বোবদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলে মামলা সাত বিচারপতির বেঞ্চে চালানো হবে কি না, তা নিয়ে। ২০২০ সালের ২ মার্চ সাংবিধানিক বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেন, সাত বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেই থেকে টানা আড়াই বছর ওই মামলার কোনো শুনানিই হয়নি।

সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হলেও জম্মু–কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত রূপায়ণে সুপ্রিম কোর্ট কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। ফলে দীর্ঘ তিন বছরে সাবেক ওই রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমূল সব পরিবর্তন ঘটে গেছে। রাজ্যের জনগণ ও উপত্যকার অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের এক বড় অংশের আপত্তি সত্ত্বেও জম্মু–কাশ্মীরের বিধানসভার সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বিধানসভার আসনসংখ্যা ৮৩ থেকে বাড়িয়ে ৯০ করা হয়েছে। আগামী বছর বিধানসভার ভোট গ্রহণের তোড়জোড় চলছে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি শুরু হবে বলে প্রধান বিচারপতি ললিত জানিয়েছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন