উত্তর প্রদেশে যোগী সরকার হটাতে এখন থেকে পরিকল্পনা শুরু করেছে কংগ্রেস
ভারতের কেরলম (সাবেক কেরালা) রাজ্যে সরকার গঠনের পর কংগ্রেসের নজরে এখন উত্তর প্রদেশ। আগামী বছর দেশের এই বৃহত্তম রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। কংগ্রেস চাইছে, দেরি না করে এখন থেকেই ভোট প্রস্তুতি শুরু করতে। রাজ্যস্তরের নেতাদের বলা হয়েছে, জয়ের সম্ভাবনা আছে এবং লড়াইয়ের শক্তি আছে, এমন ১০০–১২০টি আসন চিহ্নিত করতে। উত্তর প্রদেশ বিধানসভার ভোট আগামী বছর ফেব্রুয়ারি–মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এআইসিসিতে উত্তর প্রদেশের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অবিনাশ পান্ডে সম্প্রতি রাজ্যের ৬ সম্পাদককে জানিয়েছেন, মোট ৪০৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে জমা দিতে। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, কংগ্রেসের শক্তি আছে, সংগঠন আছে এবং লড়াইয়ের ক্ষমতা রয়েছে—এমন শ খানেক আসন চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, যাতে জোটবদ্ধ লড়াই করতে হলে ওই আসনগুলো দাবি করা যায়।
উত্তর প্রদেশে একার শক্তিতে বিজেপিকে হারানো কংগ্রেসের পক্ষে সম্ভবপর নয়। এই বাস্তবতা কংগ্রেস অস্বীকার করে না। শীর্ষ নেতারা চান, সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপির মোকাবিলা করতে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় না থেকে কংগ্রেস তাই আগেভাগেই কেন্দ্র বাছাই করে ফেলতে চাইছে, যাতে পূর্ণ শক্তিতে নামা যায়। জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে লড়লে কংগ্রেস অন্তত ৮০টি আসন দাবি করবে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আমলে ঠাকুর বা ক্ষত্রিয়দের রমরমার কারণে রাজ্যের ব্রাহ্মণেরা বেশ অখুশি। কংগ্রেস সেই সুযোগ নিতে চাইছে। মূল ভোটব্যাংক হিসেবে দল নজর দিচ্ছে ব্রাহ্মণ, দলিত ও মুসলিমদের ওপর। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সঙ্গে জোট হলে যাদব ও অন্যান্য অনগ্রসর সমাজের সমর্থন আসবে। সে ক্ষেত্রে বিজেপিকে ভালোমতো বেগ দেওয়া যাবে বলে শীর্ষ নেতাদের ধারণা। সে জন্যই দল আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আগামী বছর উত্তর প্রদেশ ছাড়াও ভোট রয়েছে আরও ৬ রাজ্যে। ফেব্রুয়ারি–মার্চে উত্তর প্রদেশের সঙ্গে ভোট হবে উত্তরাখন্ড, গোয়া, পাঞ্জাব ও মণিপুরে। নভেম্বরে ভোট কংগ্রেসশাসিত হিমাচল প্রদেশে। ডিসেম্বরে ভোট হবে গুজরাটে।
হিমাচলে ক্ষমতা ধরে রাখা কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি তারা চাইছে, উত্তরাখন্ডে বিজেপির হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে। প্রশাসনিক নানা কারণে উত্তরাখন্ডে বিজেপি বেশ কোণঠাসা। সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিন দিন বেড়ে চলেছে।
কংগ্রেস ভালো ফলের আশা করছে পাঞ্জাবেও। তবে লড়াই সেখানে ত্রিমুখী। আম আদমি পার্টিকে (এএপি) সরিয়ে ক্ষমতা দখলে বিজেপিও সচেষ্ট। গোয়ায় কংগ্রেসের হাল খুবই খারাপ। সম্প্রতি স্থানীয় পৌরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টিকে বিজেপি পর্যুদস্ত করেছে।
দুদিন আগে সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, দেশের ৮০ শতাংশ ভূখণ্ডে এখন বিজেপির শাসন বলবৎ। আগামী দিনে তা আরও ব্যাপ্তি পাবে।
২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০২৮ সালে কংগ্রেসকে দুটি বড় রাজ্যে বিজেপির মোকাবিলা করতে হবে। কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানা। এই দুই রাজ্যেই কংগ্রেস ক্ষমতায়। এ ছাড়া গো–বলয়ের তিন রাজ্য—মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেসই বিজেপির একমাত্র প্রতিপক্ষ।
বিজেপির পক্ষে এই দুটি বছর আরও গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে, কংগ্রেসশাসিত রাজ্যগুলো দখল করতে পারলে রাজ্যসভায় তাদের আসনসংখ্যা বেড়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল ঘটিয়ে তারা রাজ্যসভায় তাদের আসন বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। ওই রাজ্যে লোকসভায়ও তাদের সম্ভাবনা উজ্জ্বলতর হবে।
কংগ্রেস এই মুহূর্তে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ ও কেরলমে ক্ষমতায়। এ ছাড়া শরিক হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছে ঝাড়খন্ডে। তামিলনাড়ুতেও টিভিকে সরকারে তারা মন্ত্রিত্ব পেতে চলেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বোঝা যাবে, বিজেপির দখলে আরও বেশি ভূখণ্ড আসবে, নাকি কংগ্রেস তার হারানো শক্তি কিছুটা ফিরে পাবে।