পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর, মমতা কি লড়বেন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে
চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দুটি করে আসনে জয়ী হন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁদের ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম আসন ও রেজিনগর আসনের উপনির্বাচনের তারিখ গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেজিনগর আসনে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সর্বশেষ নির্বাচনে কলকাতার ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রতিপক্ষ মমতাকে হারান ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে। শুভেন্দু পান ৭৩ হাজার ৯১৭ ভোট। আর মমতা পান ৫৮ হাজার ৮১২ ভোট। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর প্রতিপক্ষ পবিত্র করকে হারান ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে। শুভেন্দু পান ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৬৯ ভোট আর তৃণমূলের পবিত্র কর পান ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৭ ভোট। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা আসনে হুমায়ুন কবীর ভোট পান ভোট পান ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬। আর প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০টি। জেতেন ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে। ওই নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮ আসন পায় বিজেপি।
গতকাল ভারতের নির্বাচন কমিশন এই শূন্য ২ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। নির্বাচন হবে ৬ অক্টোবর, আর ফলাফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র দেওয়া শুরু হবে কাল বুধবার থেকে। শেষ ১৬ অক্টোবর।
উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, এবার কি মমতা হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর আসনে তৃণমূলের হয়ে লড়বেন। কথাটি রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ, মমতা এখনো রাজ্য বিধানসভা বা লোকসভার কোনো আসনের বিধায়ক বা সংসদ সদস্য নন। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনকে জিইয়ে রাখার জন্য তাঁকে হয় বিধানসভা অথবা লোকসভার একটি আসনের নেতা হয়ে লড়াই করা উচিত। এসব ভেবেই তৃণমূলের অনেকেই মনে করছেন, মমতা মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে বিধায়ক প্রার্থী হলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। এই আসনটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত।
যদিও হুমায়ুন কবীর নির্বাচনে জয়লাভের পরই ঘোষণা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে তিনি একটি আসন তাঁর জন্য ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু এখনো এই গুঞ্জনের জবাব আসেনি মমতার দিক থেকে।