পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে মমতার সাবেক মন্ত্রী আশিসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ছবি: কুনাল ঘোষ এগেইন নামের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সাবেক মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্র বলেছে, আজ রোববার সকালে রাজ্যের বীরভূম জেলায় নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে।

আশিসের বাড়ির কাছে রামপুরহাটের হাততলা পাড়ায় ওই দলীয় কার্যালয়ের অবস্থান। পুলিশ সূত্র বলেছে, সেখান থেকে একটি কথিত সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কী পরিস্থিতিতে আশিসের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া কথিত সুইসাইড নোটটির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রামপুরহাটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে স্কুলশিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আশিস প্রার্থী হিসেবে রামপুরহাট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে বিজেপির প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে তিনি ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

দলীয় সূত্র বলেছে, নির্বাচনে হারের পর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।

বীরভূমে দলীয় নেতা অনুব্রত মণ্ডল জেলা সভাপতি থাকাকালে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। এমন এক সময়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, যখন চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং দলটির ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। কয়েকজন সাবেক বিধায়ক ও নেতা দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্ত ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মহত্যা করেছেন কি না, পুলিশ তা তদন্ত করছে। আত্মহত্যা করে থাকলে কী কারণে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কথিত সুইসাইড নোটে আশিস বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তৃণমূল নেতা আরও লিখেছেন, ছাত্রাবস্থায় থেকে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হননি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। রাজনীতিতে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে, কিন্তু শত্রুতা হয়নি। সারা জীবন এক পয়সাও কাজের বিনিময় গ্রহণ করেননি।

আরও পড়ুন

আশিস লিখেছেন, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন সংস্থায় তাঁর তেমন কোনো ক্ষমতা ছিল না। তাঁকে ছোট করতে অনেক কিছু করা হয়েছে। সভায় যোগ দেওয়া ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব ছিল না। টেন্ডার কমিটিতেও রাখা হয়নি তাঁকে। ‘আমাকে অপমান করার জন্য যা করা হয়েছে, তাকে আমি ধিক্কার জানাই। তাই আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ কাজে জড়িয়ে থাকুক।’

আশিস আরও লিখেছেন, ‘শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কোনো দিন ক্লাস ফাঁকি দিইনি। বিশেষ ক্লাস নিয়েছি। অনেককে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। ওদের প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি।’ তবে তিনি তাঁর সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো কথা লেখেননি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও উদ্ধার হওয়া কথিত সুইসাইড নোটের তথ্য সম্পর্কে আরও যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।