১০ জুলাই ওই নারী হোয়াটস অ্যাপে ভিডিও কলে তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মা মেয়ের কাছ থেকে কিছু তথ্য বের করার আগেই এক ব্যক্তি মেয়ের কক্ষে ঢুকে পড়েন। ফলে মেয়ে দ্রুতই কথা শেষ করেন। মার্কিন দূতাবাস আশঙ্কা করছিল যে ওই নারীকে হয়তো তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

পুলিশ প্রযুক্তিগত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেছে। এরপর তারা ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনে দাখিল করা ইমিগ্রেশন ফরমে ওই নারী যে ঠিকানা উল্লেখ করেছিল, তা ব্যুরোর কাছে চায়। ব্যুরো তা পুলিশকে দেয়। ঠিকানাটি ছিল গ্রেটার নয়দার। এরপর পুলিশ একটি হোটেলে তল্লাশি চালায়। তবে সেখানে এই নামে কেউ হোটেলে আসেনি বলে হোটেল স্টাফ জানান।

এরই মধ্যে তদন্তকারীরা দেখতে পান, ওই নারী যখন তাঁর মাকে ফোন করেন, তখন তিনি অন্য একজনের ওয়াইফাই ব্যবহার করেছেন। পরে পুলিশের তদন্ত দল সেই আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে এবং ওই আইপি অ্যাড্রেসের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করে দেখতে পায়, এটি ৩১ বছর বয়সী এক নাইজেরিয়ান নাগরিকের। তিনি গুরুগ্রামে থাকেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই নারী দিল্লির উপকূলে নয়দার একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

নয়াদিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অরুথা গুগুলথ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ওই নারীকে উদ্ধারের পর জানা যায়, তিনি তাঁর মা–বাবাকে ব্ল্যাকমেল করতে এই ঘটনা সাজান। পুলিশ জানায়, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আসা ওই নারীর ফেসবুকে নাইজেরিয়ান এই ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। দুজনই গানের অনুরাগী। সেই সূত্র ধরেই তাঁদের বন্ধুত্ব। ভারতে আসার পর থেকে তিনি তাঁর সঙ্গেই আছেন।

এরই মধ্যে দুজনের পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে থাকার অপরাধে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন