পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকে ইডির অভিযান, ছুটে গেলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৮ জানুয়ারি ২০২৬, কলকাতাছবি: এএনআই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা দুর্নীতি মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে তদন্তে নেমেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দিল্লির নির্দেশেই এই তদন্ত শুরু হয়। কলকাতার ৬টি এবং দিল্লির ৪টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি।

শুরুতেই সকালে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার ল্যান্সডাউন স্ট্রিটের বাসভবনে তল্লাশি চালায় ইডি। এই খবর মমতার কানে পৌঁছালে তিনি ছুটে যান আই প্যাকের কর্ণধারের বাসভবনে। সেখানে আরও ছুটে আসেন কলকাতা ও রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা।

এরপর ইডি যায় আইপ্যাকের সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের কার্যালয়ে। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও মমতার সঙ্গে সেখানে যান। ইডি সেখানে তল্লাশি অভিযান শুরু করে বেশ কিছু নথি জব্দ করে। তবে মমতা সেখান থেকে সব নথি নিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য প্রামাণ্য নথি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মমতা আইপ্যাকের দপ্তরে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন। তিনি নিজেই প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকেও বেশ কিছু নথি নিজের হাতে গাড়িতে তুলে বিকেলের দিকে বেরিয়ে যান।

মমতার অভিযোগ, এভাবে তাঁর দলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকের দপ্তরে তল্লাশি তাঁরা মেনে নেবেন না।

যদিও এই বাধার পর ইডি সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টে সরকারি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। হাইকোর্ট ইডির আবেদন গ্রাহ্য করে আগামীকাল শুক্রবার তাদের আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এই শুনানি হবে।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সারদা দুনীতি মামলার তদন্তে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের ল্যান্সডাউনের সরকারি বাসভবনে সিবিআইর কর্মকর্তারা অভিযানে গেলে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেখানেও ছুটে গিয়েছিলেন মমতা। সেই পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার এখন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজি। এবার ছয় বছর পর ইডির অভিযানের কথা শুনে আইপ্যাকের কার্যালয়ে গেলেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার কাণ্ডের মামলাটি পুরোনো হলেও আজ নতুন করে এই মামলার তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। তল্লাশিতে মমতার বাধা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিবৃতি জারি করে ইডি বলেছে, ‘সাংবিধানিক পদে থেকে এভাবে একটি দপ্তরে ঢুকে নথি ছিনিয়ে নেওয়া আইনবিরুদ্ধ কাজ। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেব।’

ইডির তল্লাশির পর রাজ্যে সংস্থাটির অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আজ বিকেলে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেছেন, তাঁর দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ইডি নিয়ে গেছে।

মমতার দাবি, দলের নানা গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের বহু মূল্যবান নথিপত্র ইডি নিয়ে গেছে। তবে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, আইপ্যাক দপ্তর থেকে বিভিন্ন নথি ছিনিয়ে নিয়ে মমতা বিকেলেই আইপ্যাক দপ্তর ছেড়ে চলে যান।