ভারতে মোদি সরকারের পতনের শঙ্কা তৈরি করছে ভাইরাল ‘তেলাপোকা পার্টি’
গত মাসে ভারতের একজন শীর্ষ বিচারক দেশের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি এর ফল কী হতে পারে।
বিচারকের ওই তুলনা ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মধ্যে এক বিশাল ক্ষোভ–বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে অনলাইনে এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবাদের ঘটনা।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি অনলাইনে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। তবে তারা এই আন্দোলনকে বাস্তব দুনিয়ায় রূপ দিতে পারবে কি না, তার প্রথম পরীক্ষা হবে এই সপ্তাহান্তে। প্রথমবারের মতো রাজপথের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে এসেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে।
দ্য টেলিগ্রাফকে দীপকে বলেন, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে আমরা শুধুই ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ। আমরা তুচ্ছ, সহজেই অবহেলাযোগ্য ও পুরোপুরি আবর্জনার মতো। কিন্তু তেলাপোকা সব পরিবেশেই টিকে থাকে। আপনারা আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু একেবারে মুছে ফেলতে পারবেন না।’
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের মন্তব্য পড়ার পর তিনি এ ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি এর নাম দিয়েছেন সিজেপি।
এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যাঁরা কোনো চাকরি পান না কিংবা পেশাগতভাবে কোথাও দাঁড়াতে পারেন না। তাঁদের কেউ কেউ গণমাধ্যমকর্মী বনে যান, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হন, আবার কেউ তথ্য অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ধরনের অ্যাকটিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করেন।’
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত পরে দাবি করেন, তিনি ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য দিয়েছিলেন। তবে তাঁর এ অপমানজনক কথাই তরুণদের প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। নিছক ব্যঙ্গ থেকে শুরু হওয়া এ ঘটনা এখন ভারতের সবচেয়ে আলোচিত অনলাইন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। শুধু ইনস্টাগ্রামেই ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এই দলের অনুসারী। এটি তরুণ ভারতীয়দের চরম হতাশা সামনে এনেছে। তাঁরা মনে করেন, রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের এড়িয়ে চলছেন।
দীপকে বলেন, তাঁর দল ‘অলস, বেকার ও চিরসত্যবাদীদের’ প্রতিনিধিত্ব করে। ভারতের ১৪২ কোটি মানুষের অর্ধেকের বেশির বয়স ৩০ বছরের নিচে। এ তরুণদের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠাই তাঁর দলকে এগিয়ে নিচ্ছে। দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংকট এ তরুণদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে।
প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী ভীষণ প্রতিযোগিতামূলক সরকারি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেন। উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরি পাওয়ার কয়েকটি উপায়ের এটি একটি।
কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস, নম্বর দেওয়ায় ভুল ও কারিগরি ত্রুটি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ঘটনাকে তাঁরা প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা হিসেবে দেখছেন।
দীপকে বলেন, এসব ব্যর্থতা তরুণদের গভীর হতাশাকে উন্মোচিত করেছে, যা শুধু পরীক্ষার গণ্ডিতে আটকে নেই। ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। তবু তরুণেরা বলছেন, তাঁদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। শ্রমবাজারের সূচক উন্নত হওয়ার দাবির মধ্যেই তরুণদের এ অসন্তোষ সামনে আসছে।
সরকারি তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী ভারতীয়দের মধ্যে বেকারত্বের হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছর এটি ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছর ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ১৬ শতাংশ। এদিকে আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকার ভারতীয়দের ৬৭ শতাংশই স্নাতক পাস। এটি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগের মধ্যে বিশাল ফারাক তুলে ধরে। তরুণেরা ক্রমাগত অভিযোগ করছেন, নিরাপদ ও ভালো বেতনের চাকরি পাওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীপকের মতে, সিজেপি আন্দোলন মূলত বেকারত্ব, গণতন্ত্রের পতন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি বড় ধরনের অসন্তোষের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ভারতের তরুণেরা আজ নিজেদের চরম অবহেলিত ভাবছেন। আমাদের দেশে এখন রেকর্ড বেকারত্ব। শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি কলুষিত হয়ে গেছে।’
দীপকে বলেন, ‘সম্প্রতি এসব সমস্যা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। আর এর বিস্ফোরণ ঘটেছে পরীক্ষার নানা কেলেঙ্কারির মধ্য দিয়ে। মানুষ শুধু হতাশই নয়, বরং তারা দেখছে যে সরকার ও নেতৃত্ব এসব নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাচ্ছে না।’
শনিবার নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্টের কাছে প্রতিবাদস্থলে জড়ো হন শত শত তরুণ। তাঁদের অনেকের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও তেলাপোকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলার পর এটিই তাঁদের প্রথম রাজপথের কর্মসূচি।
শনিবারের বিক্ষোভের প্রধান দাবি ছিল ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। বারবার পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের দায় এড়ানোর জন্য দীপকে সরাসরি সরকারকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি বিশৃঙ্খলার পরও একজন শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে পদে বহাল থাকেন? এ নির্লিপ্ত ব্যবস্থা আমাদের সবাইকে বিভ্রান্তিতে ফেলছে।’ রাজধানীর রাজপথে মিছিল করার সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘তেলাপোকা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছে’।
দীপকের প্রতি তরুণদের এ আকর্ষণের অন্যতম কারণ, তাঁর সাদামাটা জীবনকাহিনি। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের সম্ভাজি নগরে তিনি বেড়ে উঠেছেন। দলিত পরিবারের সন্তান দীপকে জানান, জাতিগত বৈষম্য ও সামাজিক অসমতার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
দীপকে বলেন, ‘একজন দলিত হিসেবে আমি জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই বৈষম্য ও অসমতাকে প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি আমার ভেতরে প্রাকৃতিকভাবেই চলে এসেছে।’
২০২৪ সালে স্নাতকোত্তর পড়তে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দীপকে আম আদমি পার্টির যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য বেশ পরিচিত।
দীপকে বলেন, ‘আমি কোনো ব্যতিক্রমী মানুষ নই। আমার গল্পটা ভারতের লাখ লাখ তরুণেরই গল্প।’
অনেক শিক্ষিত ভারতীয়র মতো দীপকেও উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে দেশ ছেড়েছিলেন। চাকরি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর অনুসারীরাও ঠিক একই রকম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। তাই তাঁরা খুব সহজে দীপকের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারেন। দীপকে বলেন, ‘এমনকি মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও আমি আর দশটা সাধারণ শিক্ষার্থীর মতোই ঠিক এ উদ্বেগগুলোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম।’
দীপকে জানান, তাঁর অনুসারীরা বারবার দুটি আবেগ–উদ্বেগ ও আশার কথা বলেছেন। বছরের পর বছর প্রস্তুতির পর পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনেকে তাঁকে নিজেদের কষ্টের কথা লিখেছেন। আবার অনেকে কথা দিয়েছেন, তিনি দিল্লিতে নামলেই তাঁরা আন্দোলনে যোগ দেবেন। দীপকে আরও জানান, কর্তৃপক্ষ আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করতে পারে ভেবে অনেকে তাঁকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
মোদির জন্য সিজেপির এই উত্থান বেশ অস্বস্তিকর এক সময়ে ঘটেছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তাঁর দল বিজেপি এখনো ভারতের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তবে ক্রমবর্ধমান এই হতাশা তরুণদের সরাসরি প্রতিবাদের একটি নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
‘তেলাপোকা’ আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় রাজনৈতিক হুমকি তৈরি করছে কি না, তা বিচার করতে হবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে। মোদি এখনো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নির্বাচিত নেতা।
গত মার্চে প্রকাশিত ‘মর্নিং কনসাল্ট’-এর এক জরিপে দেখা যায়, ভারতের ৬৮ শতাংশ মানুষ তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এটি তাঁকে বিশ্বের অন্যান্য বড় গণতান্ত্রিক নেতার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে এটি যেকোনো বিরোধী আন্দোলনের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জও বটে।
তারপরও সিজেপির দ্রুত প্রসার বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মোদির শাসনামলে বেড়ে ওঠা এ নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বিজেপি কোনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন সামনে আসছে। তবে সিজেপি মোদির জন্য সরাসরি কোনো নির্বাচনী হুমকি তৈরি করছে, এমন দাবি করা থেকে বিরত থেকেছেন দীপকে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো নির্বাচনী দল নই। তবে পরিসংখ্যানই সব বলে দিচ্ছে।’
পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ শিক্ষার্থীর দিকে ইঙ্গিত করেন দীপকে। তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ পরিশ্রমী তরুণের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে যে নেতৃত্ব একজন অযোগ্য মন্ত্রীকে রক্ষা করে, আপনি সেই নেতৃত্বের প্রতি একটি পুরো প্রজন্মের অনুগত থাকার প্রত্যাশা করতে পারেন না।’
নাগরিক সমাজের প্রচার গোষ্ঠী ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর জাতীয় আহ্বায়ক যোগেন্দ্র যাদব সিজেপি আন্দোলনের তাৎপর্য নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন। দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, ‘আমি এখনো সিজেপিকে কোনো আন্দোলন (মুভমেন্ট) হিসেবে দেখি না; এটিকে একটি মুহূর্ত (মোমেন্ট) হিসেবে ধরাই ভালো।’
যোগেন্দ্র যাদব বলেন, ‘এটি এমন এক মুহূর্ত, যা মোদি সরকারের প্রতি, বিশেষ করে তরুণদের ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিকে তুলে ধরে। এটি বিরোধী দলের শূন্যতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জমে থাকা ক্ষোভ, ক্লান্তি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিফলন।’
যাদব বলেন, সিজেপি সমসাময়িক ভারতের এক গভীর বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে। তিনি বলেন, ‘একদিকে মানুষের অসন্তোষ দানা বাঁধছে, অন্যদিকে সরকার ভিন্নমত প্রকাশের সব মাধ্যম (নির্বাচন, গণমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা) প্রায় পুরোপুরি নিজেদের কবজায় নিয়ে নিয়েছে।’
‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর আহ্বায়ক মনে করেন, সিজেপি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘সংসদীয় বিরোধী দলগুলো মানুষের এই ক্ষোভকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে বলে মনে হয় না। আর এ শূন্যস্থান থেকেই হঠাৎ করে এমন একটি প্রতিবাদের জায়গা তৈরি হয়েছে।’
বিশ্বজুড়েই দেখা যায়, কৌতুক, মিম ও অনলাইন তৎপরতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলো অনেক সময় প্রথাগত বিরোধী দলের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়। এরা খুব সহজে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। যাদবের মতে, তেলাপোকা পার্টি এর একটি আদর্শ উদাহরণ।
দীপকেও একমত যে তরুণদের এ ক্ষোভ কোনো নির্দিষ্ট দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি বলেন, ‘আজকের তরুণেরা দলমত–নির্বিশেষে পুরো রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতিই এক গভীর ও পদ্ধতিগত অসন্তোষ অনুভব করছেন। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের সমস্যা নিয়ে যথাযথভাবে কথা বলে না। তাই তরুণেরা মনে করেন, রাজনীতিতে তাঁদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। প্রথাগত রাজনীতি তরুণদের শুধু একটি ভোটব্যাংক হিসেবে দেখে। তাঁদের শুধু পাঁচ বছর পর পর নির্বাচনের সময় কাজে লাগানো হয়।’
দীপকে আরও বলেন, ‘কিন্তু রাজনীতি কোনো মৌসুমি বিষয় নয়; এটি প্রতিনিয়ত জবাবদিহি চাওয়ার একটি দৈনন্দিন কাজ।’