বিহারের মন্ত্রিসভায় বাড়ল অনগ্রসরদের প্রতিনিধিত্ব

নিতীশ কুমার
ফাইল ছবি: এএনআই

জোট বদলের পর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার নতুন মন্ত্রিসভার জাতভিত্তিক সমীকরণও বদলে দিলেন। আরজেডির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কমিয়ে দিলেন মন্ত্রিসভায় উচ্চবর্ণের প্রতিনিধিত্ব। বাড়ালেন অনগ্রসর, অতি অনগ্রসর ও মুসলমানদের। মঙ্গলবার ৩১ জনের মন্ত্রিসভা শপথ নিল। সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব আরজেডির (১৬)। তারপর রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দল জেডিইউ (১১)। মন্ত্রিসভায় রয়েছেন কংগ্রেসের ২ জন, হাম–এর ১ জন ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য।

মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার নিজের হাতে রেখেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ সাবেক স্পিকার বিজয় চৌধুরী পেয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি পেল স্বাস্থ্য, নগর উন্নয়ন, গ্রাম উন্নয়ন, আবাসন ও পূর্ত মন্ত্রণালয়। তেজস্বীর বড় ভাই তেজপ্রতাপ হলেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী।

নতুন মন্ত্রিসভার চমক অবশ্য অন্যত্র। নিতীশ নেতৃত্বাধীন জেডিইউ-বিজেপি মন্ত্রিসভায় উচ্চবর্ণের সদস্য ছিলেন ১১ জন, যাঁদের ১০ জনই ছিলেন বিজেপির। উচ্চবর্ণের এই প্রতিনিধিত্ব এবার কমে হয়েছে ছয়জন। বিদায়ী মন্ত্রিসভায় মুসলমান সদস্য ছিলেন মাত্র দুজন। এবার তা বেড়ে হয়েছেন পাঁচজন। কংগ্রেসের যে দুজন মন্ত্রী হয়েছেন, তাঁদের একজন মুসলমান। দলিত মন্ত্রীও বেড়ে হয়েছেন পাঁচজন। বিজেপি বেশি করে দলিত ও অন্য অনগ্রসরদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াচ্ছে বলে নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা যে প্রচার চালাচ্ছেন, নিতীশ-তেজস্বী তা ভুল প্রমাণিত করতে চেয়েছেন। উচ্চবর্ণের সংখ্যা হ্রাস করে বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপি শেষ পর্যন্ত উচ্চবর্ণের স্বার্থ রক্ষায় বেশি সচেষ্ট ছিল। জাতভিত্তিক বিহারি রাজনীতিতে এই সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রিসভা গড়ার সময় নিতীশ ও তেজস্বী দুই নেতাই এ বিষয়ে সজাগ থেকেছেন।

মোট ৩১ জনের মন্ত্রিসভায় তাই অন্য অনগ্রসর (ওবিসি) ও অতি অনগ্রসর শ্রেণি (ইবিসি) থেকে ঠাঁই হয়েছে ১৭ জনের। একক জাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য অনগ্রসর যাদবদের। মোট মন্ত্রীর সংখ্যা ৭। আগেরবার যাদব মন্ত্রী ছিলেন দুজন। এবার নারী মন্ত্রী হয়েছেন তিনজন। বিহারে মোট মন্ত্রী করা যাবে ৩৬ জনকে। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য পাঁচটি মন্ত্রী পদ খালি রইল।

মহারাষ্ট্রের বিজেপি-বিক্ষুব্ধ শিবসেনার জোট মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হয়েছে ৯ আগস্ট। টানা ৪০ দিন টালবাহানার পর মাত্র ১৮ জনকে মন্ত্রী করা হলেও বিক্ষুব্ধ শিবসেনাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। মন্ত্রণালয় বণ্টন নিয়ে শিবসেনার নতুন নয়জন মন্ত্রীর মধ্যে অন্তত চারজন অখুশি। এ অসন্তোষ তাঁরা প্রকাশও করে ফেলেছেন। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, রাজস্ব, গ্রাম উন্নয়ন, পর্যটন, পরিবেশ ও উপজাতি উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিজেপি নিজেদের হাতে রেখে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে বলে বিক্ষুব্ধ শিবসৈনিকেরা অভিযোগ করছেন। মহারাষ্ট্রে মোট মন্ত্রী করা যাবে ৪৩ জনকে। মন্ত্রিসভার বর্তমান বহর ২০। এর মানে আরও ২৩ জন নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় আসতে পারবেন। শিন্ডে অনুগামী ৪০ জনই মন্ত্রিত্বের দাবিদার। দাবির মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে ও উপ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশের হিমশিম হাল।