ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সিঙ্গুর সফর, শিল্প নিয়ে আশার কথা শোনা গেল না
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল রোববার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার ‘ক্ষমতায় আসার আঁতুড়ঘর’ সিঙ্গুরে এসেছিলেন। সেখানে এসে মোদি ঘোষণা দিলেন, ‘কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্প আসবে।’
যাঁরা আশা করেছিলেন, মোদি সিঙ্গুরে শিল্প স্থাপনের ঘোষণা দেবেন, তাঁরা হতাশ হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপিও এ ঘোষণায় কিছুটা বিব্রত।
হুগলি জেলার এক জনপদ সিঙ্গুর। সেখানে টাটার ন্যানো গাড়ি কারখানা নির্মাণের জন্য তখনকার বামফ্রন্ট সরকার টাটা গোষ্ঠীকে ৯৯৭ একর জমি লিজ দিয়েছিল। এর মধ্যে ৪০০ একর জমির মালিক নিজ–ইচ্ছায় টাটাকে জমি দিতে চাননি। এসব অনিচ্ছুক কৃষককে নিয়ে সিঙ্গুরে টাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন এই রাজ্যের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। জমি অধিগ্রহণ–সংক্রান্ত আপিল মামলায় তৎকালীন রাজ্য সরকারের জমি গ্রহণকে অবৈধ বলে রায় দেন আদালত। সিঙ্গুর থেকে বিদায় নেয় টাটা। এরপরই ২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে আন্দোলনকে হাতিয়ার করে নির্বাচনে জয়ী হন মমতা। টাটাকে তাড়িয়ে ওই জমি ফিরিয়ে দেওয়া হলে সেই জমি আর উর্বর হয়ে ওঠেনি। ওই জমিতে টাটার ন্যানো গাড়ি কারখানার ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছিল।
এবার এই ন্যানো গাড়ির কারখানা আর রাজ্যের জমিবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে গতকাল পা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আসার আগে বিজেপি গোটা এলাকায় প্রচার শুরু করেছিল, এই সিঙ্গুরের দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবার শিল্পায়নের বার্তা নিয়ে আসছেন মোদি। সিঙ্গুরবাসীর অধিকাংশই এই ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়েছিল।
কিন্তু মোদি আর সিঙ্গুরবাসীর আশার আলোকে গতকাল জ্বালিয়ে গেলেন না।
গতকাল বিকেলে সিঙ্গুরে উপস্থিত হয়ে মোদি ঘোষণা দিয়ে গেলেন, ‘এই বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই এই শিল্প আসবে। বিনিয়োগ হবে। তবে তা সম্ভব হবে বিজেপির সরকার গঠিত হলে।’ এভাবেই সিঙ্গুরে শিল্পের সম্ভাবনার পথ বাতলে গেলেন মোদি। দিয়ে গেলেন রূপরেখা। মোদির কথার সারমর্ম হলো, এ রাজ্যে বিনিয়োগ তখনই চলবে, যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক হবে।
যদিও মোদির ভাষণের পর রাজ্যের তৃণমূল নেত্রী ও মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরের ভাষণ শুনে তো হতাশ হয়েছেন সিঙ্গুরবাসী। তিনি তো কোনো সিঙ্গুরবাসীর জন্য প্রত্যাশার আলো জ্বালিয়ে গেলেন না!’
রাজ্য বিজেপি–নেতৃত্বও মোদির ভাষণের পর কিছুটা বিব্রত বলে জানা গেছে।